
জালাল উদ্দিন, পেকুয়া;
কক্সবাজারের পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চৈরভাঙ্গা এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত চৈরভাঙ্গা জামে মসজিদ থেকে পশ্চিমপাড়া কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ২০ চেইন সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে সংস্কারবিহীন থাকা এ সড়কটি স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষেরা যাতায়াতে পোহাতে হতো চরম ভোগান্তি।
মানুষের ভোগান্তি দেখে নিজ ওয়ার্ড না হওয়ার পরও সাধারণ মানুষকে দূর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে নিজস্ব অর্থায়ন নিয়ে ছুটে আসলেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ইট ও বালু দিয়ে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করেন শাহেদুল ইসলাম প্রকাশ শাহেদ মেম্বার। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই যুগ আগে সড়কটিতে ইট বিছানো হলেও আজ পর্যন্ত কেউ কোনো উন্নয়ন কিংবা সংষ্কার কাজ করেনি। বর্তমানে সড়কটি অসংখ্য খানাখন্দকে নাখাল অবস্থায়, কোথাও কোথাও পূ্র্বের বসানো ইট উঠে গিয়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
এই সড়ক দিয়ে হরিনাফাঁড়ি, তেলিয়াকাটা, মচিন্যাকাটা, খাসপাড়া, চৈরভাঙ্গা (পূর্বপাড়া-পশ্চিমপাড়া)সহ আশপাশের অন্তত ৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ১০-১২ জন শ্রমিক ইট ও বালু দিয়ে সংস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি ডাম্পার ট্রাকে করে নির্মাণসামগ্রী আনতে দেখা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই সংস্কার কাজ শুরু করেছেন যা তাদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক ফজল করিম ও বদিউল আলম বলেন, বছরের পর বছর এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে আমরা চরম দূর্ভোগে পতিত হয়েছি। ধান আনা-নেওয়ার সময় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।
ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম শামীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে শাহেদ মেম্বারের নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছি।
স্কুল শিক্ষার্থী ফাহিম, কলেজ শিক্ষার্থী তানিম ও সাকিব হোসেন বলেন, বর্ষাকালে স্কুল-কলেজে যেতে অবর্ণনীয় কষ্ট হতো। এখন আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে।
বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব তমিজুল আলম বলেন, এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।
৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে আশি ঊর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধা রাবিয়া বেগম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে চরম কষ্ট পেতাম। এখন কাজ হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে।
ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, দুই যুগ ধরে সড়কটি উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এমন অবস্থা হয়েছে যে, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রায় পাঁচটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়ত করে। মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিজের অর্থায়নে কাজটি শুরু করেছি। তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও চেয়ারম্যান মহোদয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করছি