প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 6, 2026 ইং
আখাউড়ায় পাষণ্ড স্বামীর পৈশাচিকতা: যৌতুকের বলি গৃহবধূর কাটা চুল এখন পুলিশের টেবিলে!

শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
আখাউড়া: সভ্য সমাজকে হার মানানো এক বর্বরতার সাক্ষী হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া। ৫ লাখ টাকা যৌতুকের বলি হতে হলো এক গৃহবধূকে। শুধু শারীরিক নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড স্বামী ও তার পরিবার, প্রকাশ্য দিবালোকে গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার নারীত্বের সম্মান। মঙ্গলবার সকালে কাটা চুল আর রক্তাক্ত শরীর নিয়ে থানায় হাজির হওয়া ওই গৃহবধূর আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে থানা চত্বর।
ঘটনার নেপথ্যে ৫ লাখ টাকার লালসা
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল আজমপুর এলাকার রামধননগর গ্রামের দ্বীন ইসলাম ওরফে দিনু। মঙ্গলবার সকালে সেই টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দিনু ও তার পরিবারের সদস্যরা হিংস্র হয়ে ওঠে। গৃহবধূকে এলোপাথাড়ি মারধর করার পর কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়া হয়।
থানায় প্রতিবাদের নজিরবিহীন দৃশ্য
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে ওই গৃহবধূ সরাসরি আখাউড়া থানায় হাজির হন। নিজের কাটা চুলগুলো পুলিশের টেবিলের ওপর রেখে তিনি যখন নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের চোখেও জল চলে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পলাতক অভিযুক্তরা, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী দ্বীন ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন:
"এটি একটি চরম ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছি। এই পৈশাচিকতার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।"
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা