প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং
এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রতিষ্ঠানের ইসলামী ব্যাংক শেয়ার আটকে দিলেন আদালত

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার আগামী তিন মাসের জন্য ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এস আলম-সংশ্লিষ্টদের দ্বারা বেআইনিভাবে কেন্দ্রীভূত ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুলও জারি করেছেন। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশের লিখিত অনুলিপি এর একদিন আগে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয় বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।
আবেদনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো একক পরিবার বা গোষ্ঠী একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারের মালিক হতে পারে। কিন্তু এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত ২৪টি কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচয়ে ইসলামী ব্যাংকে যুক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, যা প্রচলিত আইনি সীমা সরাসরি লঙ্ঘন করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এটিই এস আলম-সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের প্রথম পদক্ষেপ নয়। গত বছর একই ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, তাদের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। একই আদেশে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এবারের নতুন আদেশের মাধ্যমে সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকা ব্যাংকের শেয়ারই আটকে দেওয়া হলো, ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরেও এখন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো।
নতুন এই আদেশের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে থাকা বিপুল পরিমাণ শেয়ারের ওপর হাইকোর্টের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করার পর থেকেই ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হলে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাতে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে, যার ধারাবাহিকতায় সম্পদ জব্দ, হিসাব ফ্রিজ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মতো একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এবারের শেয়ার ফ্রিজের আদেশ সেই প্রক্রিয়ারই সর্বশেষ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা