সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলা সিনেমার সংলাপের সাথে রিভলবার প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেটিজেনরা নানান মন্তব্য করছেন এবং স্থানীয় সচেতন মহল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আনুমানিক ২৫-৩০ বছর বয়সী এক যুবক একটি টিনের ঘরের বিছানায় মশারির টানিয়ে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় দাড়িয়ে আছেন। তার হাতে একটি রিভলবার, যা তিনি নানা ভঙ্গিমায় প্রদর্শন করছেন। ভিডিওর পটভূমিতে জনপ্রিয় বাংলা সিনেমার সংলাপ ‘ওই জিল্লু, মাল দে’ বলতে শোনা যায়।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন আইডি থেকে এটি শেয়ার করা হয়। ‘মোজাম্মেল মির’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কাদের হাতে দেখে নিন।" অন্যদিকে, ‘এমডি হোসেন মোল্লা’ নামের আরেকটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, "সন্ত্রাসীদের কোনো দল হয় না। এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
অনুসন্ধানে ভিডিওর ওই যুবকের পরিচয় জানা গেছে। তার নাম নিককসন আহম্মেদ মানিক, পিতা ছকেন মোল্লা। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ভাবড়াশুর ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামে। নিকসন আহম্মেদ মানিকের ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জিসাস)-এর সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় সমাজপতি ও সচেতন মহল তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন সমাজের জন্য একটি অশনি সংকেত এবং এটি তরুণদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে পারে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলার রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক নেতা জানান, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যেই হোক না কেন, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।
ভিডিওতে থাকা যুবকের সাথে যোগাযোগ করা হলে নিকসন দাবি করেন যে এটি কোনো আসল অস্ত্র নয়, বরং একটি পিস্তল আকৃতির লাইটার এবং তিনি কেবল মজা করার জন্য একটি রিলস ভিডিও তৈরি করেছিলেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছ