প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 4, 2025 ইং
২৪ বছর আগের সিএফআই’র ছেলের প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত সরকারি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ আবার আলোচনায়

স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৫ — ২৪ বছর আগে, ২০০১ সালে, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল অ্যাভিয়েশন লিমিটেডে (BFA & GA) ঘটে যাওয়া এক সরকারি ভর্তুকি কেলেঙ্কারি আবারও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রশিক্ষণার্থী পাইলট আজিজ আব্বাস রফিক, যিনি সে সময় একাডেমির প্রধান ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর (CFI) ক্যাপ্টেন রফিকুর রহমানের ছেলে।
তৎকালীন লিখিত অভিযোগে উল্লেখ ছিল — আজিজ এক বছরেরও কম সময়ে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) প্রশিক্ষণ শেষ করেন, যা সাধারণ প্রশিক্ষণ সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত, এবং তিনি সরকারি ভর্তুকি থেকে নিজের জমা দেওয়া অর্থের চেয়ে বেশি টাকা তোলেন।
জমার চেয়ে বেশি সরকারি অর্থ উত্তোলন।
রেকর্ড অনুযায়ী, আজিজ প্রশিক্ষণের জন্য একাডেমিতে জমা দিয়েছিলেন ২,১৬,৭৫৪ টাকা। কিন্তু সরকারি ভর্তুকি হিসাবে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (CAAB) থেকে পেয়েছিলেন ২,৬৮,৫০০ টাকা — অর্থাৎ নিজের জমার চেয়ে ৫১,৭৪৬ টাকা বেশি সরকারি অর্থ তার হাতে যায়।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
অভিযোগ ছিল, প্রশিক্ষণ চলাকালে সিএফআই নিজেই তার ছেলের সাথে একাধিকবার ফ্লাই করেছেন, যা সরাসরি স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। তাছাড়া, তিনি একসাথে তিনটি বড় সুবিধা পান —
১. সবচেয়ে কম সময়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
২. নামমাত্র খরচে প্রশিক্ষণ
৩. সর্বোচ্চ সরকারি ভর্তুকি বরাদ্দ
আজকের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন
যদিও ঘটনাটি ২০০১ সালের, আজকের দিনে বিমান চলাচল খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে — কিভাবে সরকারি অর্থ এমনভাবে একজন শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয় হলো, এবং এই অর্থ এখনো ফেরত এসেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
টাকা ফেরত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি
বেসরকারি মহল এবং কিছু প্রাক্তন সদস্যরা এখন দাবি করছেন — উত্তোলিত অতিরিক্ত সরকারি অর্থ অবিলম্বে ফেরত নিতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
এই পুরনো কেলেঙ্কারি নতুন প্রজন্মের কাছে প্রশ্ন তুলেছে — সরকারি ভর্তুকি কি সত্যিই যোগ্য শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য, নাকি প্রভাবশালীদের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হয়?
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা