
তরিকুল ইসলাম
ছাত্র জনতার আন্দোলনের তোপের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের এমপি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সব পালিয়ে যায়। দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। নির্বাচন মুখি হয় দেশের জনগণ। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার মতো নড়াইল -১ আসনেও নেতারা জনগণের কাছে যায়। এলাকার উন্নয়ন, জনগণকে ভালো রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির একাধিক নেতা আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায়র ঘোষণা দিয়েছে।এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্ত দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মী যার যার পছন্দের প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পরায়। তৈরি হয় বিভেদ কোন্দল। তর্ক বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার, একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রুপ নেয়। বিএনপির দলীয় কোন্দলে সুকৌশলে সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত।
বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, নিজেদের কোন্দলের কারণে নড়াইলের বিএনপির অবস্থা ভালো না। নিজেদের মধ্যে যে কোন্দল শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে ধানের শিষকে বিজয় করা কষ্টকর হয়ে যাবে।
নড়াইলের সাধারণ ভোটাররা মনে করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জন্যে বিএনপি গত ১৭ বছর জেল জুলুম নির্যাতন গুম হত্যার শিকার হয়েছে।এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। এই সময় যদি তারা নীজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়াই তাহলে দলের জন্য দেশের জন্য এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে অসম্ভব হয়ে যাবে।
বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, আমেরিকা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি, সাবেক সভাপতি বহির্বিশ্ব বিএনপি ও আন্তর্জাতিক প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন- বিগত ১৭ বছর বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে আতাত করে চলেছে। তিনি দলের চেয়ে নীজের ভাবনাটা ভাবেন বেশি। ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি অবহেলা, দাম্ভিক আচারণ ধীরে ধীরে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে একটা চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নীজস্ব বলয় ও পেটুয়া বাহিনী গড়ে তুলেছে। তার বলয়ের বাহিরে কাউকে পাত্তা দেন না। এমনকি ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলের পদপদবি পেতে দেন না এটা দলের জন্য খুবই ক্ষতিকর ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী সরকারের সুযোগ সুবিধাভোগী অনেকেই আছে বর্তমান কমিটিতে তার মধ্যে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস অন্যতম। তার স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে নড়াইল-১ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ। আজকের বিভেদ কোন্দল যা-ই দেখেন না কেন,তা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এর কারণে।তাই তার বলয় মুক্ত হতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে নেতা কর্মিরা ।
আমার ব্যক্তিগত ভাবে জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের উপর কোনো ক্ষোভ নেই। তার নোংরা মানুষিকতা দলকে কুক্ষিগত করে রাখার চিন্তা ভাবনাকে ঘৃণা করি। আপনি জেনে অবাক হবেন,১৮ মে ২০২৫ বেন্দারচর ঘোড়া দৌড় অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি করা হয়,সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে যুগানিয়া বাজার পর্যন্ত আসার পর। এই জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের পেটুয়া বাহিনি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার গাড়ি বহরের বর্বরোচিত হামলা করে। আমি সহ ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। হামলা করে ক্ষ্যান্ত হয়নি গাড়ি ভাংচুর করে জ্বালিয়ে দেয় এবং আমার কাছে থাকা ডলার, নগদ টাকা এবং আমার ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স লুটে নিয়ে যায়।
যা দলের জন্য খুবই লজ্জাজনক একটা বিষয়। আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনীতি করেছি, আমেরিকা বিএনপির সভাপতি ছিলাম, সাবেক সভাপতি বহির্বিশ্ব বিএনপি এবং আন্তর্জাতিক প্রধান সমন্বয়কারী। বর্তমান বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। আমার সাথে যদি এমন হতে পারে। তাহলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কি বেহাল দশা, সাধারণ ভোটার, দলীয় কর্মীরা কতটা ভয় আতংকে চাপে থাকে। সত্যি কথা বলতে নড়াইল-১ আসনের নেতাকর্মীরা জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের দাদাগিরি মাফিয়া গিরি থেকে মুক্তি চায়।
নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি তো নড়াইল-১ আসনে কোনো কোন্দল দেখি না। আওয়ামী শাসনামলে এই নেতাকর্মীদের সাথে ছিলাম এখনও আছি। বিগত ৩৫ বছর নড়াইল জেলা বিএনপির সাথে আছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হামলা মামলা জেল জুলুমের শিকার হয়েছি। গণ অভ্যুত্থানের পরে কিছু নতুন মুখ দেখছি তাদেরকে নড়াইলের মানুষ এবং দলের নেতাকর্মী ভালো করে চেনে না। পতিত হাসিনা সরকারের কিছু নেতাকর্মীর ইন্ধন পৃষ্ঠপোষকতায় নড়াইল-১ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখছে। বিএনপির ঐক্য বিনষ্ট হতে দেবে না।
আমি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে ধানের শিষ প্রতিকে নড়াইল-১ আসনে নির্বাচন করেছি। যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ফাঁটল ধরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস তারা ব্যর্থ হবে। কালিয়া নড়াগাতী থানার বিএনপি সুশৃঙ্খল এবং আদর্শিক ঐক্যে সুসংগঠিত ছিল এবং এখনো আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামের মাইল ফলক হচ্ছে ৫ ই আগস্ট ২০২৪। আমরা ভেবেছিলাম নড়াইল জেলা ফ্যাসিস্ট মুক্ত হবে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট দূরের কথা, ১৭ বছর যারা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া ছিলো। আজ বাস্তবে দেখা যায়, আমাদের জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ফ্যাসিস্ট যুক্তদের দ্বারা কমিটি গঠন করে। আমাদের ত্যাগি কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কমিটি থেকে বহিষ্কার, বিএনপির নিবেদিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এমনকি প্রয়াত বি এম বাকির হোসেনের অনুসারীদের দলে স্থান না দেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের দলের পদ পদবীসহ বিভিন্ন জাগায় যুক্ত করেছেন। এই বিষয়গুলো দলের হাইকমান্ডকে অবগত করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মতের বাহিরে গেলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার সহ পুলিশ হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তার এই অপকর্মের জন্য নড়াইল জেলার সাধারণ কর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যা ভবিষ্যতে ভয়ংকর সহিংসতায় রুপ নিতে পারে। তার অনুসারীরা সমাজ বিবর্জিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছে। নতুন কেউ নেতৃত্বে আসতে চাইলে বিশ্বাস গ্রুপ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রপাগাণ্ডা এবং হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে।
যেখানে দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা সেখানে তার স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে দলের সদস্য সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় চলতে থাকলে অচিরেই অস্তিত্ব সংকটে পড়বে নড়াইল জেলা বিএনপি। দলের হাইকমান্ডের কাছে আমার বিনিত নিবেদন, নড়াইল জেলা বিএনপির সংকটকালীন দু:সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে এই নব্য ফ্যাসিস্ট এর হাত থেকে তৃণমূল বিএনপিকে রক্ষা করুন।
নড়াগাতী থানা বিএনপির সহসভাপতি লস্কর ফিরোজ আহমেদ বলেন- কালিয়া উপজেলা, কালিয়া, পৌর ও নড়াগাতী থানা কমিটিতে জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর বিভিন্ন প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী সুযোগ সুবিধা নেয়া হাইব্রিড লোক দ্বারা কমিটি করার কারণে আজকে নড়াইল-১ আসনে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়। এবং সেটা তীব্র থেকে তীব্র সহিংসতার রুপ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে নড়াইল জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত ইসলাম সুযোগ লুফে নিচ্ছে। এই দ্বন্দ্ব কোন্দল অব্যাহত থাকলে নড়াইল-১ আসন বিএনপির হাতছাড়া হলেও হতে পারে।
নড়াগাতী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ বুলবুল কবির এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন- নড়াইল-১ আসনে গণমানুষের নেতা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হামলা মামলা গুমখুন এর ভয়কে জয় করে এককভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। নড়াইলের একমাত্র নেতা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম প্রতিটি বিএনপির নেতাকর্মীদের আত্মার সাথে মিশে আছে। নড়াইলের প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে এম পি হিসেবে দেখতে চায়। গত ৫ ই আগস্ট ২০২৪ ইং এর পর থেকে কিছু বসন্তের কোকিল আমাদের মাঝে আবির্ভাব হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আদৌও তারা বিএনপি করে কি না জানি না এবং তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের সাথে নিয়ে তাদের উৎস উদ্দীপনায় দলের ভেতর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। নড়াইল জেলা বিএনপি জাহাঙ্গীর আলম এর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।বসন্তের কোকিলরা যতই চেষ্টা করুক ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে ফাঁটল বা চির ধরাতে পারবে না। নড়াইল-১ আসনের বিএনপি নেতাকর্মী তথা আপামর জনসাধারণ বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে একমাত্র নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নড়াইল-১ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের একমাত্র চাওয়া জননেতা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম নমিনেশন পাবেন এবং এমপি হয়ে অবহেলিত নড়াইলের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন বলে প্রত্যাশা করি।
অনিরুদ্ধ দাশ অনি
(আহবায়ক,হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট নড়াগাতী থানা শাখা, যুগ্ম সমন্বয়ক,হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, নড়াইল জেলা শাখা ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক যুবদল নড়াগাতী থানা) বলেন, বিগত বছরে কালিয়া নড়াগাতি থানার বিএনপি সুশৃংখল ও আদর্শের ঐক্য ছিলো। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপির ত্যাগী নেতারা দলের জন্য যে অবদান রেখেছিলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর থেকে সেই সব নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা এই ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের চামচামি করে, দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে শুধু তাই নয় সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতা যাদের দ্বারা বিএনপির নেতারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত ৫ আগস্ট এর পর থেকে তাদেরকে সক্রিয় করা হয়েছে।
তারা এখন পোস্টধারী বড় নেতা কিন্তু যারা মামলায় জর্জরিত তাদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় নেই নেতাদের। যার কারণে ত্যাগীদের ভিতরে চাপা অভিমান সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যারা মন থেকে দলকে ভালোবাসি মনোনয়ন নিয়ে কখনো কোন্দল সৃষ্টি করবো না। নড়াইল জেলার রাজনীতিতে ত্যাগীরা ভালো কোনো পদ পজিশনেও নেই। নড়াইল জেলায় যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে নেতাদের আত্মীয়-স্বজন দিয়েই করা হয়েছে। এই ১৭ বছর ধরে যারা জীবন বাজি রেখে মিছিল মিটিং করলো,মামলা হামলার শিকার হয়েছিলো, পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, নেতারা তাদের জন্য ভালো কোন অবস্থান কেন রাখল না? আমাদের ভিতরে অনেকে আছে যারা ১৭ বছর বাড়ি যেতে পারেনি, মায়ের হাতে ভাত খেতে পারেনি,, এমনকি আত্মীয়-স্বজন মারা গেলেও তাদেরকে শেষ দেখা দেখতে পারিনি।
তাদের আজ ভালো কোনো অবস্থান নেই, কেন নেই এর কোনো সঠিক উত্তরও নেই,কোন্দল হওয়ার জন্য এটা কি যথেষ্ট নয়? আমরা যারা বিএনপিকে ভালোবাসি তারা ব্যক্তি পূজা করতে চাই না।আমাকে নড়াগাতী থানা বিএনপিতে একটা পদ দেওয়া হয়েছে। যার পরিচয় দিতে আমার অস্তিত্বে আঘাত লাগে।১৯৮৮/৮৯ সাল থেকে ছাত্রদলের মিছিল মিটিং দিয়ে শুরু করি ১৯৯০ সালের গনঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক ছাত্রনেতা গৌতম মিত্র দাদার পক্ষে বড় ভাই জুলফিকার আলি সহ ৯০ এর সহযোদ্ধাদের সাথে কাজ করেছি যা এখনও পর্যন্ত চলমান এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।
বড় দল যে কেউ দলের নমিনেশন চাইতে পারে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। মূল কথা হলো ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষেই কাজ করব। আমি নড়াইল কালিয়া-১ আসনের নেতাদের বলতে চাই দলীয়ভাবে যে বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে তার থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি তাহলে দল যাকেই নমিনেশন দিক নির্বাচনে জয়ী হওয়া খুবই কঠিন হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে নড়াইলের দুইটা আসন ই আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্ক।যে সমস্ত নেতারা মনে করছেন আওয়ামী লীগের ভোটে এমপি হবেন। সেজন্য আওয়ামী লীগকে রক্ষা করছেন তাদেরকে পোস্ট পজিশনে আনছেন, আপনাকে ভোট দিয়ে দিবে, আসলে কি এটা কখনো হয়? আমার ওই সমস্ত নেতাদের কাছে একটা প্রশ্ন ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট নির্যাতনের সময় আপনারা কি কখনো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন ? যদি আপনারা না দিয়ে থাকেন তাহলে তারা কেন আপনাদের ভোট দিবে ? আমি চরম শত্রু কেও বিশ্বাস করতে পারি কিন্তু আওয়ামী লীগকে নয়। এই বাস্তবতার সাথে আমি অনেকবার ফেস করেছি। অতএব একক রাজনীতি ছেড়ে সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে দলের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করছি।আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করলে অবশ্যই জয়ী হব।
মুন্সী আসাবুর রহমান আরাফাত
(যুগ্ন-আহবায়ক সেচ্ছাসেবক দল নড়াইল জেলা) বলেন, দলীয় কোন্দল শুরু হয়েছে ইউনিয়ন,থানা, উপজেলা কমিটি গঠন করা নিয়ে। অনেক কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসোরেরা এবং আত্মীয়করণ করা হয়েছে। ১৭ বছরের নির্যাতিত নিপিড়ীত ত্যাগী কর্মীদের বিএনপির দলীয় পদ পদবী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দলের চেয়ে গ্রুপিং, আপন বলয়ে নজর বেশি দেয়া হয়েছে। নিজের গ্রুপের লোক ব্যাতিত কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি। ধানেরশীষের বলায় না তৈরি করে নিজের বলায় তৈরি করা কোন্দলের মুল কারণ বলে মনে করি।
এবিষয়ে একজন ভ্যানচালককে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন - জামায়াতের নেতাকর্মী আমাদের বোঝাচ্ছে আওয়ামী লীগ বিএনপি একই। আমাদের একবার সুযোগ দিয়ে দেখেন,আমরা চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজী করবো না। এলাকার উন্নয়ন করবো, শান্তিতে ও নিরাপদে থাকবেন আপনারা। কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে জামায়াত। এ যদি না বোঝে বিএনপি তাহলে পস্তাতে হবে।
পতিত সরকারের এমপি কবিরুল হক মুক্তির ১৫ বছর তাবিদারি করা অনেকে বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকে আবার সফল হয়েছে। দলীয় কোন্দলনের কারনে ফ্যাসিস্ট অনুসারীদের বিএনপিতে ঘেঁষা সহজ হয়েছে। নেতারা তাদের দল ভারি করতে ফ্যাসিস্টদের দলে ভেড়াচ্ছে।
এক পথচারীর কাছে বিএনপির দলীয় কোন্দল এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন- বিএনপি একটি বড় দল, শতভাগ ফেয়ার নির্বাচন হলে বিএনপি সরকার গঠন করবে চোখবুঁজে বলে দিয়া যায়। ১৭ বছর জেল জুলুম মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পেয়েছে।
এখন যদি আপন স্বার্থে নীজেরা মারামারি চুল টানাটানি করে তা খুবই হাস্যকর হবে। আর এই সুযোগ নিবে জামায়াত। জামায়াতের নেতাকর্মী সাধারণ ভোটারদের বোঝাচ্ছে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একই। তারা তরুণ ভোটারদের দলে টানছে। ইসলামি যুব ক্লাব নামে খেলার আয়োজন করে টাকা ইনভেস্ট করছে। আগের চেয়ে অনেক কর্মী বেড়েছে জামায়াতের। বিএনপির ভেতর যতো দ্বন্দ্ব বিভেদ সৃষ্টি হবে, জামায়াতে ইসলামী ততই সুযোগে নিবে।