প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 13, 2025 ইং
কক্সবাজার স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও আগুন!!

মতিউল ইসলাম (কক্সবাজার)
সম্প্রতি সময়ে ঘরে ঘরে পাতি নেতার সংখ্যা বেড়েই চলছে। কেউ কারো কথা শুনছেন না, সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মুরুব্বিরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যার শঙ্কায় রয়েছে,প্রতিটা মুহূর্তে ঝুঁকিতে দিন পার করছেন পুলিশ সদস্যরা । তারই অংশ হিসেবে,কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে উত্তেজিত দর্শকদের ব্যপক হামলা ও ভাঙচুর। স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয় ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্সসহ পুরো স্টেডিয়াম ভবন, উপড়ে ফেলা হয় মাঠের গোলপোস্ট।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাটিচার্জ করেছে। এসময় কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার, নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং সদর থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন, একাধিক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।
গত শুক্রবার বিকাল তিন ঘটিকার সময় রামু ও টেকনাফ উপজেলার মধ্যে ফাইনাল ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ছিল । তবে খেলা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
দুপুর ২টার মধ্যেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক প্রবেশ করে গ্যালারিতে। একপর্যায়ে উত্তেজিত দর্শকরা প্রবেশ গেইট ভেঙে মূল মাঠে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মাঠে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মাঠের ভেতর থেকে দর্শকদের বের করতে সেনাবাহিনীসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। মাঠথেকে বের করে দেয়া দর্শকেরা বাইরে থেকে হামলা শুরু করেন।
বিকেল সাড়ে পাঁচ ঘটিকার সময় খেলা স্থগিত করে আয়োজক কমিটি। এই ঘোষণা আসার পর মুহুর্তের মধ্যেই ফের মাঠে প্রবেশ করে হাজারো দর্শক। শুরু করে ব্যপক ভাঙচুর।
জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মতো চিকিৎসা নিয়েছেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান বলেন, আমাদের (পুলিশের) অনেকেই আহত আছেন।তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্যালারিতে ধারণ ক্ষমতার বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় এধরণের ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি দর্শকরা যেনো কোনো ভাবে আহত না হয়। কিন্তু অনেকের উশৃংখল আচরণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের সদস্যরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছিল। এঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়ে পরবর্তীতে উর্ধতন কর্মকর্তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবে।
দর্শকদের অভিযোগ,তারা আগেই টিকিট কিনেছেন। টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারিত হলেও অধিকাংশকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে টিকিটের জন্য। অথচ অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেও তারা মাঠে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।
টেকনাফ থেকে আসা বাপ্পি নামের এক দর্শক বলেন, “আমি ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছি, অথচ গেইটে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঘণ্টাখানেক। কেউ ঢুকতে দিচ্ছিল না। পরে দেখি সবাই একসাথে গেইট ঠেলে ঢুকে গেল। খেলা দেখতে আসা রহিম উদ্দিন বলেন, “বাচ্চা নিয়ে এসেছিলাম খেলা দেখতে। এই ভিড় আর ধাক্কাধাক্কিতে বাচ্চা সামলানো দায় হয়ে গিয়েছিল। আয়োজকরা ঠিকমতো তাদের দায়িত্বে অটল ছিল না,বিদায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা