
তরিকুল ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিএনপি নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন জাগছে, কে হবে নড়াইল-১ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী?
বারবার মনোনয়ন পাওয়া বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম না নতুন কেউ...?
সরজমিনে দেখা যায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের উন্নত জীবন যাপনের আশার বাণী শোনাচ্ছে। সন্ত্রাস মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
আওয়ামী সরকার বিগত ৩ টি নির্বাচনে অবৈধভাবে দেশের জনগণের ভোট হরণ করেছে। ২৪ গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণ আশা করছে তারা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। ইতিমধ্যে অন্তরবর্তি সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা করেছে। সরকারের এই ঘোষণা করার পরে বিএনপি ও জনগণের মধ্যে ভোটের আমেজ বিরাজ করছে। অনেকে নমিনেশন পাওয়ার আশায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য,সাবেক আমেরিকা বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট। জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন। যুক্তরাষ্ট্র টেক্সাস স্টেট এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা জহিরুল ইসলাম জহির। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) এস এম সাজ্জাদ হোসেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. আহমেদ শফিকুল হায়দার পারভেজ। সাজ্জাদুর রহমান সুজা সাবেক জেলা বিএনপির সহসভাপতি।
বিএনপির একাধিক প্রার্থী হলেও জামায়াত ইসলামের একক প্রার্থী নড়াইল জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী প্রচার প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় প্রার্থীর সংকট দেখা যাচ্ছে।
মনোনয়ন রেসে অনেকে আছেন, আপনাকে কেন মনোনয়ন দিবে...? দল যাকে নমিনেশন দেবে তারপক্ষে কাজ করবেন কি...?
প্রতিবেদক একই প্রশ্ন সব প্রার্থীদের করলে। তারা বলেন-
আব্দুল লতিফ সম্রাট
স্বৈরাচারী এরশাদের পতন থেকে শুরু করে ১/১১ এর মাইনউদ্দিন ফখরুদ্দিনের সরকারের পতন ও সর্বশেষ ২০২৪ এর আন্দোলনে স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের আন্দোলনে সমগ্র বহির্বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়েছি সেই বিবেচনায় আমার অবদানকে দল বস্তুনিষ্ঠ বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দিবে এমনটি আশা করি ।
আমি ভিন্ন অন্য কাউকে দল মনোনয়ন দিবেনা। এমনটিই আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি ইনশাআল্লাহ ।তাই আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন আমার বিবেচনায় অপ্রাসঙ্গিক।
অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন
আমার জানামতে নড়াইল-১ আসনে অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে বলে মনে করি। কারণ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা কালিন আমি একজন সক্রিয় সদস্য ছিলাম। পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকে আমার বড়ভাই বি এম বাকির হোসেন জাতীয়তাবাদী দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আমি ৮ম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঢাকা কলেজ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ বছর শিক্ষকতা করেছি। একজন শিক্ষকের হাত ধরে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়, বিপথগামী হয় না। এই অনুন্নত এলাকার জন্য একজন শিক্ষক প্রয়োজন। সবদিক বিবেচনা করে দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে বলে আশা করি। তারপরও যদি আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে নমিনেশন দেয়। আমি দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তার হয়ে শতভাগ কাজ করবো। আমি স্বীয় স্বার্থের চেয়েও দলকে বেশি ভালোবাসি। আমি সর্বোপরি ধানের শীষের বিজয় দেখতে চাই।
জহিরুল ইসলাম জহির
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পেছনে আমার যথেষ্ট ভূমিকা আছে। শেখ হাসিনা স্বৈরশাসক তার স্বৈরাচারী থেকে বাংলার মানুষ মুক্তি চায় তা আমি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি সর্বোচ্চ ভোটে। আমি দেশ এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এক প্রোগ্রামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমার বক্তব্য শুনে আমাকে ক্ষুদে মাস্টার উপাধি দেন। তিনি বলেছেন যোগ্য প্রার্থীকে নমিনেশন দেওয়া হবে।
আমি পজিটিভ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দল থেকে যাকে নমিনেশন দেবে। আমি শতভাগ তার হয়ে কাজ করবো।
সাজ্জাদুর রহমান সুজা
আমার বাবা আব্দুল ওয়াজেদ নড়াইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আজকে নড়াইলে বিএনপির গণ জোয়ারে আমাদের পরিবারের অবদান আছে। আমিও নড়াইল জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলাম।
জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনা নিয়েই বড় হয়েছি।এই দলের জন্য মামলা হামলার শিকার হয়েছি বহুবার। প্রত্যেক রাজনীতিবিদরা স্বপ্ন দেখে পার্লামেন্ট মেম্বার হওয়ার। জনগণের পাশে থেকে নিরলসভাবে জনগণের সেবা করার। আমিও স্বপ্ন দেখি জনগণের সেবক হওয়ার। আশাবাদী দল আমাকে নমিনেশন দেবে। যদি দল আমাকে নমিনেশন দেয়, তাহলে এই আসন ধানের শীষকে বিজয় করবো ইনশাআল্লাহ।
আর দলের হাইকমান্ড ধানের শীষের প্রতিক যাকে-ই দিবে, আমি তার হয়ে কাজ করবো। কারণ পদ পজিশন থেকেও দল আমার কাছে বড়।
প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করলেও দলের প্রতি আছে অঘাত সম্মানবোধ। দলের হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা মেনে নিবেন। দল যাকে ধানের শীষের প্রতিক দেবে তার হয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।
দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে দেখা যায় এবং স্থানীয় মানুষের জরিপে অনেকবেশি এগিয়ে আছেন অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। অন্য প্রার্থীরা নাগিব এবং জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মতো আলোচনা সমালোচনাতে নেই। এই দুই জনের যে কেউ হতে পারে নড়াইল-১ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী। সাধারণ ভোটার এবং দলের নেতাকর্মী মনে করেন। কেউ বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে এগিয়ে রাখছে। আবার কেউ বি এম নাগিব হোসেনকে এগিয়ে রাখছে। কে হবে ধানের শীষের কান্ডারী?? এই আলোচনায় মাঠঘাট হাট বাজার চায়ের দোকানে ব্যস্ত সময় পার করছে কালিয়া নড়াগাতীর মানুষ।
দীর্ঘ ১৬ বছর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারার যন্ত্রণা থেকে বের হয়ে ভোট উৎসবে মেতে উঠেছে। সবাই যার যার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে গুনগান ও তর্ক বিতর্কে যুক্তি দাঁড় করিয়ে সময় পার করছে। এক কথায় ভোট আমেজে মেতেছে কালিয়া নড়াগাতীবাসী।
কালিয়া নড়াগাতীর জনপদ ঘুরে ফেরার পথে একজন প্রবীণ বুদ্ধিদীপ্ত এক ভদ্রলোকের সাথে দেখা। তিনার কাছে জানতে চাইলাম, নড়াইল-১ আসনে অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে আপনি কাকে যোগ্য বলে মনে করেন। ভদ্রলোক ঠোঁটে ঈষৎ হাসি এঁকে বললেন। দেখো বাবা আমি যোগ্যতার মাফকাঠিতে যাবো না। তবে তোমাকে কিছু কথা বলি, দলের নীতিনির্ধারকেরা ভুল করলে দেশ ও জাতীর অপূরনীয় ক্ষতি হয়। ধরো একজন ব্যবসায়ীকে নমিনেশন দিলে তার মননে মগজে ব্যবসায়িক চিন্তা ভাবনা থাকে।
তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের চেয়েও নীজের উন্নয়নে মশগুল থাকে। যদি একজন সন্ত্রাস দুর্নীতিবাজকে মনোনয়ন দেন তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আর যদি নীতিনির্ধারকেরা একজন সৎ যোগ্য শিক্ষিত মানুষকে নমিনেশন দেন তাহলে তার নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা এবং সততার চর্চা হয়। একজন শিক্ষিত সৎ গুনিজনের নেতৃত্বে তার নির্বাচনী এলাকা আমুল বদলে যায়। ওই অঞ্চলে শিক্ষার প্রতিযোগিতা হয়। সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ দেশের সম্পদ।
আশাকরি তোমার উত্তর পেয়েছ বলে হাসিমুখে বিদায় নেন।