প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং
পুলিশি পাহারার মধ্যেই চট্টগ্রামে শিল্পপতির বাসায় ১৫ রাউন্ড গুলি।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই এই হামলা করা হয়েছে। একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেলে করে এসে সন্ত্রাসীরা বাড়ির পেছন দিক থেকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা পাঁচ ভাই একসঙ্গে ওই বাড়িতেই থাকি। ফজরের নামাজ শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন পেছন দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। বাড়ির সামনে অস্ত্রধারী পুলিশ এবং আমাদের নিজস্ব চারজন গানম্যান থাকার পরও হামলা হয়েছে। পরে আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি।”
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদার জন্য ফোন করে আসছিল। প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একটি বিদেশি নম্বর থেকে ‘সাজ্জাদ’ ও আরেকটি নম্বর থেকে ‘ইমন’ পরিচয়ে ফোন করা হয়। সর্বশেষ মোবাইল ফোনে একটি মেসেজে লেখা ছিল—‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।
মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এর আগেও আমাদের বাড়িতে গুলি করা হয়েছিল। আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ কাজ করেন। সরকার নিরাপত্তা দিতে না পারলে জীবন বাঁচাতে বিদেশে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।”
উপকমিশনার হোসাইন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারীরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহান এই হামলায় সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাস্ক পরা তিনজন ব্যক্তি বাড়ির পেছনে হেঁটে আসে। তাদের একজনের হাতে পিস্তল, একজনের হাতে সাব মেশিনগান (এসএমজি) এবং অন্যজনের হাতে শটগান ছিল। তারা তিনটি অস্ত্র থেকে প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। কিছু দূরে অস্ত্র হাতে আরেকজন দাঁড়িয়ে ছিল। হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় গুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং দরজায় গুলি লাগে। এরপর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। তবে দেড় মাসের মাথায় আবারও গুলির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুশীল সমাজের অনেকে মনে করছেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর বাসায় চাঁদার দাবিতে এমন হামলা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। তারা দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপের বিভিন্ন পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড, বিএম কনটেইনার ডিপো লিমিটেড, সিটি হোম প্রপার্টিজ লিমিটেড, আল রাজি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফুডজিবনধারা ও দৈনিক পূর্বদেশসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা