প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 8, 2026 ইং
পেকুয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দিল আদালত।

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ;
কক্সবাজারের পেকুয়ায় থানা কম্পাউন্ডে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে সাজা দেয়ার খবরে প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক মাধ্যমসহ সচেতন মহলে। ফলে এ নির্মমতার বিষয়টি নজরে আসে জেলার প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। ঘটনার আদ্যপ্রান্ত যাচাই শেষে বিশেষ বেঞ্চে শুনানী করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অবৈধ রায় বাতিল করে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি শেষে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)-কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য গত বুধবার (৪ মার্চ) কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় পৈতৃক বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সি আর মামলার তদন্তকারী পেকুয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) পল্লব কুমার ঘোষ তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে কথা বলে ঘুষ হিসাবে নেয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম মাহবিব এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ কারাদন্ডের কথা চাউর হওয়ার পর প্রতিবাদের ঝড় উঠে কক্সবাজারসহ সারাদেশে।
মামলার বাদী ও ভূক্তভোগীরা জানান, চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ। ভূক্তভোগী জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আরো জানান, তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে দেওয়ার আশ্বাসে এসআই পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘোষ নেন।
দাবীকৃত টাকা নেওয়ার পরও তিনি বিবাদীপক্ষের অনুকূলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু টাকা ফেরত চাইতে পেকুয়া থানায় গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মা-মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর ওওওওকরে আহত করে এবং ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে এনে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ভূক্তভোগী জুবাইদা জন্নাত ও তার মায়ের উপর হামলাকারী ও অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান এ প্রতিবেদককে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন,সংঘটিত ঘটনার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থাশীল হয়ে উঠবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঘুষ গ্রহণে অভিযুক্ত এস আই পল্লব কুমার ঘোষ এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে মুঠোফোনের সংযোগ না দেয়ায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম মাহবুব এ বিষয়ে জানান,পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মা-মেয়েকে ১মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা