প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 11, 2026 ইং
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে 'টিকেট মাফিয়া' ও মাদক সিন্ডিকেট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: শেখ সাদী সুমন,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: এক সময়ের আতঙ্কের জনপদ এবং টিকেট কালোবাজারিদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন এখন শতভাগ 'ব্ল্যাকারমুক্ত'।
গত বছরের ৩০ আগস্ট রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হিসেবে এসআই মো. রফিকুল ইসলাম যোগদানের পর মাত্র ছয় মাসেই এই অসাধ্য সাধন করেছেন। তার কঠোর অবস্থান এবং ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্টেশনের চিহ্নিত অপরাধী চক্র।
কালোবাজারি সাম্রাজ্যে বড় আঘাত ফাঁড়ি ইনচার্জের তথ্যমতে, যোগদানের সময় এই স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের অনলাইন বা অফলাইনে টিকেট পাওয়া ছিল এক প্রকার অসম্ভব। টিকেট ছিল ব্ল্যাকারদের দখলে।
কিন্তু গত কয়েক মাসে বিশেষ অভিযানে অন্তত ২০ জন পেশাদার কালোবাজারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
২৬ মামলার কুখ্যাত আসামি হাকিম
১০ মামলার আসামি খায়রুল
৬ মামলার আসামি ছোট কালু
ভুয়া টিকেটধারী ইয়াছিন ও কালোবাজারি চায়নাসহ আরও অনেকে।
ইতিমধ্যেই ছাত্র-জনতা এই স্টেশনকে 'টিকেট কালোবাজারিশূন্য' হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা সাধারণ যাত্রীদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। মাদক ও ছিনতাই রুখতে 'জিরো টলারেন্স' কেবল টিকেট নয়, মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত এই রুটটিতেও চালানো হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। গত ছয় মাসে ফাঁড়ি পুলিশের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজা এবং ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
এছাড়া মোবাইল ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। অনিয়ম পেলেই 'অ্যাকশন': হটলাইন চালু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য জানিয়ে এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি যেন কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার না হন। ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।"
তিনি আরও জানান, কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সরাসরি রেলওয়ে পুলিশের হটলাইনে যোগাযোগ করার জন্য। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা (অ্যাকশন) গ্রহণ করা হবে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা