প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 16, 2026 ইং
কক্সবাজার চকরিয়া সাফারি পার্কে প্রকল্পের অর্থ হরিলোট বেপরোয়া ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল!

মতিউল ইসলাম (কক্সবাজার)
রক্ষক যখন বক্ষকে পরিণত হয় তাহলে আর করার কিছুই থাকেনা, যা রাষ্ট্রের জন্য অশোভনীয় সংকেত। এমন এক চিত্র দেখা গেছে, যা শিয়াল মামার পাঠশালার গল্প কেউ হার মানিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারে চকরিয়ায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দুর্নীতির অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে। প্রাণীদের অযত্নে-অবহেলা, নিন্মমানের খাবার প্রদানসহ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে পার্ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর আলমকে শাস্তির বদলে উল্টো পদোন্নতি দিয়েছে বন অধিদপ্তর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পার্কে আধুনিকায়নে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল আলম ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেট মিলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় পুরো টাকা তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা চালায়। গত বছরের ১০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) -এর এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পায়। দুদকের এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- বাঘের বেষ্টনি, ফুড স্টোরেজ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ মাত্র ২০-৩০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও নথিপত্রে শতভাগ কাজ দেখিয়ে বিল ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এসময় পার্ক কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল আলমের কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যজেন্টম্যান্ট বুকসহ কোন প্রকার ভাউচার পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
পার্কের একাধিক কর্মচারীসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর আলমের ইশারায় উন্নয়ন কাজের অর্থ হরিলুট ছাড়াও প্রাণীদের নিম্নমানের খাবার প্রদানে অনেক প্রাণী অপুষ্টিতে ভুগছে। এছাড়াও পার্কে সম্প্রতি মারা যওয়া নীলগাই'সহ বিভিন্ন সময়ে প্রাণী মৃত্যু নিয়ে এ কর্মকর্তার কোনপ্রকার অনুভূতি দেখা যায়না। পার্কে যদি চাকরি না করলে প্রাণীর প্রতি আন্তরিক বিহীন এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনসম্মুখে প্রতিবাদ জানাতেন বলেও ক্ষোভ প্রতিক্রিয়া জানায় সংশ্লিষ্ট অনেকে।
স্বাভাবিক পর্যায়ে দেখা যায়, কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত অথবা বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা মাঠপর্যায় থেকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পার্ক কর্মকর্তা মঞ্জুর আলমের ক্ষেত্রে ঘটেছে তার বিপরীত। বন অধিদপ্তরের একটি মহলের আশীর্বাদে তাকে শাস্তির আওতায় আনার পরিবর্তে সম্প্রতি 'ডেপুটি রেঞ্জার' পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এটি সরকারি সম্পদ ধ্বংস করতে দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করা হয়েছে বলে বিরূপ মন্তব্য উঠেছে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক অনেক কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মাঝে।
পার্কে বেড়াতে আসা পর্যটক এম সোহান জানান, এখানকার সর্বাধিক বন্যপ্রাণী অপুষ্টিতে ভুগছে তা প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়। যেসব খাবার এখানে দেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে। এখানকার অবস্থা দেখে "সাফারি পার্ক" ও "চিড়িয়াখানা" মধ্যে ব্যবধান বোঝা পর্যটকদের মুশকিল হয়ে পড়ছে।
অভিযোগের ব্যাপাকে জানতে চাইলে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল আলম সাংবাদিকদের বক্তব্য দিতে রাজিনন এক পর্যায়ে তিনি বলেন,পার্কে বন্যপ্রাণীর জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহ হচ্ছে এটা সঠিক নয়। পার্কে কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান আছে যেগুলো চলতি অর্থবছরে শেষ হবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা