প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 3, 2026 ইং
সাংবাদিকতার মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ: আমাদের দায়বদ্ধতা।

শেখ সাদী সুমন, জেলা প্রতি নিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাংবাদিকতা কেবল একটি জীবিকা নয়; এটি সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই দর্পণে সমাজ তার প্রকৃত প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ইদানীং এই মহান পেশার অভ্যন্তরে এক নেতিবাচক সংস্কৃতি ও অসহিষ্ণুতা প্রকট হয়ে উঠেছে।
আমরা অনেক সময় ভুলে যাচ্ছি যে, সাংবাদিকরাও রক্ত-মাংসের মানুষ; তাঁদেরও ব্যক্তিগত জীবন, সীমাবদ্ধতা এবং ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে মতাদর্শের ভিন্নতা, ব্যক্তিগত লেনদেন বা পাওনা-দেনা নিয়ে বিরোধ থাকা অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু সেই ব্যক্তিগত রেষারেষি বা ক্ষোভকে যখন আমরা খবরের পাতায় তুলে আনি, তখন তা আর সংবাদ থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার। যখন একজন সংবাদকর্মী অন্য সহকর্মীর ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাঁকে জনসমক্ষে হেয় করার নেশায় মেতে ওঠেন, তখন তিনি শুধু একজন ব্যক্তিকে আঘাত করেন না, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান।
একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে— ‘কাকে কাকের মাংস খায় না’। পশুপাখিও নিজের জাত চেনে এবং প্রতিকূলতায় একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। অথচ সমাজকে সচেতন করার মহান ব্রত যাঁদের কাঁধে, তাঁরাই অনেক সময় সহকর্মীর সম্মানহানি করে নিজেকে বড় প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত হন। মনে রাখা জরুরি, অন্যকে ছোট করে কখনো নিজের উচ্চতা বাড়ানো যায় না; বরং এতে সাধারণ মানুষের কাছে সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকদের ভাবমূর্তিই চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
সাংবাদিকতা একটি পবিত্র পেশা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব। পেশাদারিত্বের জায়গায় মতভেদ থাকবেই, কিন্তু তা নিরসনের উপযুক্ত ক্ষেত্র সংবাদমাধ্যম নয়। ব্যক্তিগত বিবাদকে পেশার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা সাংবাদিকতার নীতিশাস্ত্রের (Ethics) পরিপন্থী।
আসুন, আমরা নিজের পেশার মানুষের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল হই। একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ভাষা যেন হয় পেশাদার, ব্যক্তিগত কুৎসা নয়। নিজের পেশার প্রতি মমত্ববোধ এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি। কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করে সাংবাদিকতার প্রকৃত আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এই পেশার সম্মানকে হিমালয়সম উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই হোক আমাদের লক্ষ্য।
ব্যক্তিগত শত্রুতা যেন আমাদের কলমকে কলঙ্কিত না করে—আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা