প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 4, 2026 ইং
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের এ কী কাণ্ড! ১০০০ টাকার বেতন যেভাবে ৩০০০ হয়?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের এ কী কাণ্ড! ১০০০ টাকার বেতন যেভাবে ৩০০০ হয়? শিক্ষা নাকি ডাকাতি? রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ফি-সন্ত্রাসে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে অভিভাবকদের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার নামে চলছে প্রকাশ্য বাণিজ্যিক লুটতরাজ! জেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের এমন ‘ফি-সন্ত্রাসে’ এখন চরম দিশেহারা সাধারণ অভিভাবকরা।
সম্প্রতি এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মুখ খুলেছেন কাউতলী এলাকার বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর পিতা আবু মিয়া। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষা বাণিজ্যের এক ভয়ংকর চিত্র।
লুটতরাজের নেপথ্যে যা আছে:
ভুতুড়ে মাসিক বিল: অভিভাবকদের দাবি, মাসিক বেতন ১০০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও মাস শেষে বিভিন্ন অজুহাতে ২৭০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
ভর্তি বাণিজ্যের মহোৎসব: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, একই বিদ্যালয়ে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে পুনঃভর্তি ফি নেওয়ার কোনো বিধান নেই। অথচ আবু মিয়ার দাবি, প্রতি বছর তার কাছ থেকে ৫০০০ টাকা করে পুনঃভর্তি ফি হাতিয়ে নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
আইডি কার্ড ও এসএমএস ফাঁদ: একটি সাধারণ প্লাস্টিক আইডি কার্ডের দাম ধরা হচ্ছে ৩৫০ টাকা! পাশাপাশি মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর চার্জ হিসেবে আরও ৩৫০ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হচ্ছে, যা চরম অযৌক্তিক এবং অমানবিক।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকের আর্তনাদ: ভুক্তভোগী অভিভাবক আবু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা কোথায় যাব? বেতন ১০০০ টাকা হলেও পকেট থেকে যাচ্ছে ৩০০০ টাকা। আইডি কার্ড আর মেসেজের নাম করে টাকা কাটছে। এভাবে চললে আমাদের বাড়িঘর বিক্রি করে স্কুলের বিল দিতে হবে। আমরা এই জুলুমের অবসান চাই।"
আইনের তোয়াক্কা নেই: হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকা সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানটি পুনঃভর্তি এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা দায়সারাভাবে জানায়— ‘এভাবেই নিয়ম চলে আসছে’। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে?
জনরোষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি: স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী অভিভাবকদের দাবি, মানসম্মত শিক্ষার আড়ালে এটি এখন একটি ‘টাকা বানানোর মেশিনে’ পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে জেলা শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই লাগামহীন লুটতরাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে এই দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কঠোর আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা