আঃ হাকিম বিশেষ প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পুটিখালী গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া সোহেল শেখ আজ এক সফল উদ্যোক্তা এবং সমাজসেবক। মেধা, শ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির সমন্বয়ে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যবদলই করেননি, বরং নিজ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে স্থাপন করেছেন এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।
১৯৮৬ সালের ১৬ নভেম্বর মোড়েলগঞ্জ থানার পুটিখালী গ্রামে মো. সরোয়ার শেখ ও মিনারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন সোহেল শেখ। জীবনের তাগিদে ১৯৯৮ সালে কিশোর বয়সেই তিনি পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। চাকুরিজীবন শুরু করেন বিদ্যুৎ খাতের একটি প্রতিষ্ঠানে, যারা পাওয়ার প্লান্ট থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে পাওয়ার প্লান্টের সব রকম মালামাল ক্রয় করতো। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর সেখানে কাজ করে সবরকম কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
২০১০ সাল থেকে সোহেল শেখ নিজেই ব্যবসায়িক অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন। পাওয়ার প্লান্টের মালামাল বিক্রয়ের টেন্ডারে অংশ নিয়ে সরাসরি 'প্রথম পক্ষ' হিসেবে পাওয়ার প্লান্টের সব রকম মালামাল ক্রয়ের ব্যবসায় যুক্ত হন। দীর্ঘ দেড় দশকের সততা আর পেশাদারিত্ব তাকে এই শিল্পে একজন প্রতিষ্ঠিত ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
সোহেল শেখের জীবনের এক বড় শোকের অধ্যায় ছিল ২০২৬ সাল, যখন তিনি তার প্রিয় মা মিনারা বেগমকে হারান। মায়ের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে তিনি নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন ‘মিনারা ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা’।
এখানে আলিয়া মাদ্রাসার কারিকুলাম অনুযায়ী দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক সাধারণ শিক্ষার চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অত্যন্ত সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
গ্রামের অবহেলিত জনপদে আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে তিনি এলাকার তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
সোহেল শেখ প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম করলে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। তার ব্যবসার সফলতা তাকে কেবল ব্যক্তিগত সচ্ছলতা দেয়নি, বরং সমাজ ও মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ করে দিয়েছে। "মিনারা ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা" আজ পুটিখালী তথা মোড়েলগঞ্জ এলাকার শিক্ষার এক নতুন বাতিঘর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা যুগ যুগ ধরে তার মায়ের নাম ও তার মহৎ উদ্যোগকে বাঁচিয়ে রাখবে।
এ জাতীয় আরো খবর...