পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে লাইসেন্সধারী মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান শেষে এজেন্টদের কাজের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সতর্কতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
মাসুদ খান বলেন, প্রশিক্ষণ ও সনদ গ্রহণের পর লাইসেন্সধারী এজেন্টরা মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কাজ শুরু করতে পারবেন। পুঁজিবাজারের বিকাশে এ খাতকে আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
মিউচুয়াল ফান্ডের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, দেশটিতে লাইসেন্সধারী মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্টরা বিমা ব্রোকারদের মতো কাজ করেন। এ ধরনের ব্যবস্থার ফলে ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প বড় পরিসরে বিকশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএসইসি চেয়ারম্যানের মতে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। তাই শুধু সরাসরি শেয়ারে বিনিয়োগের ওপর নির্ভর না করে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বাজারের গভীরতা ও বাজার মূলধন বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্যের বিকাশ প্রয়োজন।
মাসুদ খান আরও জানান, বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করছে কমিশন। এসব নীতিমালা যেন পুঁজিবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও বিনিয়োগকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার বাছাই এবং বুঝেশুনে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন মাসুদ খান।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও সনদের মাধ্যমে দক্ষ এজেন্ট তৈরি করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশে কাজ করতে চায় কমিশন। লাইসেন্সধারী এজেন্ট চালুর পরিকল্পনাকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখছে বিএসইসি।