গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
তীব্র গরম আর দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে গোপালগঞ্জ জেলা শহরসহ পাঁচটি উপজেলার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমানতালে বাড়ছে ভোগান্তি। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সন্ধ্যার পর পরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, দিনের বেলা তীব্র গরমের কারণে টেবিলে বসা কঠিন হয়ে পড়ে, আর রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে মোমবাতি বা হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ স্বল্প আলোয় পড়ার কারণে চোখে ব্যথা ও মাথাব্যথাসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছে তারা।
গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় তারা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলা শহরের তুলনায় মুকসুদপুর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরও প্রকট। অনেক এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও। শহরের লোহাপট্টি, কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ার ফলে ফ্রিজে রাখা পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হচ্ছে এবং ডিজিটাল মেশিনে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এছাড়া কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
কৃষিপ্রধান এই জেলায় সেচ কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। কৃষকরা জানান, সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে না পারায় বোরোসহ অন্যান্য ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের বাধা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরীক্ষার এই দিনগুলোতে অন্তত রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এ জাতীয় আরো খবর...