দীপংকর মল্লিক, বান্দরবান:
বান্দরবানে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনে তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকায় তার নাম ঘোষণার পর থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ। সংরক্ষিত নারী আসন পদে না থেকেও পেলেন বিএনপির মনোনয়ন, এই যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়ে কপাল খোলার মতনই। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মাধবী মার্মা কখনো বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে কিংবা রাজপথে তাকে কখনোই দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ত্যাগী নেত্রী বলেন,
যারা বছরের পর বছর মামলা-হামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের বাদ দিয়ে একজন সুবিধাবাদীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটি তিন পার্বত্য জেলার ত্যাগী নারী নেত্রীদের জন্য চরম অপমানজনক এবং দুঃখের বিষয় । এভাবে চললে মানুষ আর দল করা ও দলের জন্য কাজ করার উৎসাহ পাবে না।
বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, আমার জানামতে মাধবী মার্মা বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন পদে ছিলেন না। তবে তাকে বিএনপির মিছিল মিটিং এ দেখেছি মাঝে মাঝে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দলের হাই কমান্ড আছে তারাই ভালো বলতে পারবেন কীভাবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মার বাড়ি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ডং নালা এলাকায় হলেও বৈবাহিক সূত্রে তিনি বান্দরবান শহরের উজানী পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং এল এলএম পাশ করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বান্দরবানে সহকারী আইন কর্মকর্তা ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন, সেখানে তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনে বান্দরবান থেকে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। তারা হলেন- জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, সাধারণ সম্পাদক এড. উমেসিং মার্মা, যুগ্ম সম্পাদক শিরিনা আক্তার ও এড মাধবী মার্মা। এদের মধ্যে সর্বাধিক আলোচনায় ছিলেন উম্মে কুলসুম লীনা।
এ জাতীয় আরো খবর...