সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালী বীচে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি
১৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ স্কুলছাত্র রিফাতের মরদেহ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত আবারও সাক্ষী হলো এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনার। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে এসে জোয়ারের উত্তাল স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া দশম শ্রেণির ছাত্র মোঃ রিফাত শেখ (১৬)-এর মরদেহ প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত রিফাত কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে মোহাম্মদ খায়রুল শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের বরাতে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে আসা পাঁচ বন্ধুর একটি দল বিকেলে গুলিয়াখালী সৈকতে ঘুরতে এসে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে নামে। এসময় জোয়ারের তীব্র স্রোতে পড়ে তারা সবাই হাবুডুবু খেতে শুরু করে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বোটচালক সানজিদ, হাসান ও সুমন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামেন।
তারা চারজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রিফাত প্রবল স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় এবং নিখোঁজ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকতের ওই এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পর্যটকদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করে পানিতে নামেন। ঘটনার দিনও স্থানীয়রা ছাত্রদের জোয়ারের সময় পানিতে নামতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু সতর্কবার্তা অমান্য করেই তারা সাগরে নামে।
স্থানীয় বোটচালকরা জানান, গুলিয়াখালী সৈকতের নির্দিষ্ট কিছু অংশে ভয়ংকর স্রোত ও হঠাৎ গভীর খাদ থাকায় অতীতেও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারপরও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসা এবং সাগর উত্তাল থাকায় রাতের জন্য অভিযান স্থগিত রাখা হয়।
পরবর্তীতে রবিবার ভোরে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সৈকতের কেউড়া বনসংলগ্ন এলাকা থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গুলিয়াখালী ও বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এখনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দ্রুত লাইফগার্ড নিয়োগ, বিপজ্জনক এলাকাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং পর্যটকদের জন্য কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত ও বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় পানিতে ডুবে বহু পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
এ জাতীয় আরো খবর...