শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: মোঃ নাজিম উদ্দিন
গাজীপুরের শ্রীপুরে বাইকুনুর জাতের আঙ্গুর ফলিয়ে দেশের মাটিতে আবুল হোসেনের বাম্পার ফলন । তার বাগানে বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে আঙ্গুর। লতানো গাছের প্রতিটিতেই লাল, সবুজ আঙ্গুরের সমাহার।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের সাঈদ আলী মোড়লের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আবুল হােসেন মোড়ল এক বিঘা জমিতে বিদেশি চারটি জাতের আঙ্গুর চাষ করেছেন। প্রতিটি গাছেই অবাক করা ফলন এসেছে। আঙ্গুর বাগানের চারপাশ সুতার জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পাখির আক্রমণ থেকে ফল রক্ষা করতেই এই সুতার জাল। উঁচু মাচার ওপরে লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে লাল, সবুজ রঙের আঙ্গুর। ফলগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি। পরিপক্ব হলে বাজারজাত করবেন বলে জানান আবুল হােসেন।
বাগানোর মালিক আবুল হােসেন বলেন,আমার প্রবাসী ছেলের ইচ্ছায় আঙ্গুর বাগান করি। এই চারাগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করছি। কিছু আনা হয়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে। নাটোর থেকে কিছু আনা হয়েছে। দেশে এই বিদেশি আঙ্গুরের চাহিদা অনেক। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আরও অনেকে যদি এই আঙ্গুর চাষ করেন, তাহলে বাজারে আঙ্গুরের দাম কমবে, পুষ্টির চাহিদাও মিটবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে দেশে যেসব আঙ্গুর উৎপাদিত হতো, সেগুলো স্বাদে কিছুটা টক ছিল। নতুন জাতের এই আঙ্গুর আমাদের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী এবং স্বাদেও মিষ্টি।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘চিনাশুকানিয়া গ্রামে আঙ্গুরের বাগান করা হয়েছে। এখানে হাইব্রিড বাইকুনুর জাতসহ কয়েকটি জাতের চাষ করা হয়েছে। বেশ ভালো ফলন আশা করছেন কৃষক। ফলে ইতিমধ্যেই রং ধরেছে। এর মাধ্যমে আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শ্রীপুরের পক্ষ থেকে আমরা আঙ্গুরের পরিচর্যায় কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি, এই বিদেশি ফলের চাষ আমাদের দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
এ জাতীয় আরো খবর...