মতিউল ইসলাম (কক্সবাজার)
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সৌন্দর্য গ্রাস করে নেওয়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এবার সরাসরি রণকৌশল ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৯ মার্চ) জেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—
আগামী ৭ দিনের মধ্যে সৈকতের বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান সংলগ্ন সকল ঝুপড়ি দোকান এবং অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। মন্ত্রীর এই কঠোর বার্তার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে বর্তমানে প্রায় ৪৫০টির বেশি অবৈধ ছোট-বড় স্থাপনা রয়েছে।
এর মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা। বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে উঠেছে শুঁটকি ও শামুক-ঝিনুকের প্রায় ১৫০টি দোকান। কলাতলী মোড় মেরিন ড্রাইভের প্রবেশমুখে ফুটপাত ও সৈকতের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অন্তত ৩০টি অস্থায়ী খাবার হোটেল। ঝাউবাগান এলাকা বনায়ন ধ্বংস করে বসা এসব দোকানে রাত বাড়লেই চলে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর। গোপন সূত্রে জানা যায় এসবের নেপথ্যে শক্তিশালী 'চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট' এর নিয়ন্ত্রণে চলছে।
এদিকে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ না হওয়ার পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।যারা প্রতিটি ঝুপড়ি দোকান থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বড় দোকান থেকে মাসিক ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নামধারী নেতা ও কতিপয় অসাধু কর্মচারী এই অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের তথ্য আগেভাগেই পাচার হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় দখলদাররা সটকে পড়ে এবং পরে আবারও ফিরে আসে।
সৈকতে অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে পর্যটকরা সমুদ্র দেখার স্বাভাবিক পরিবেশ হারাচ্ছেন। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সৈকতের ইকো-সিস্টেম হুমকির মুখে। আমরা কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে চাই, কিন্তু সৈকতে পা রাখলেই যদি হকার আর অবৈধ দোকানের ভিড়ে পথ হারানো লাগে, তবে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবে, জনৈক বিদেশি পর্যটক। অন্যদিকে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পর জেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপগ্রহণ করেছে বলে জানা যায়,
যেগুলোর মধ্যে
সোমবার ও মঙ্গলবার: মাইকিং ও চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান।
বুধবার থেকে শুক্রবার: বুলডোজার ও বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু। উচ্ছেদকৃত স্থানে আবারও যেন দখল না হয়, সেজন্য 'বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি' এবং 'ট্যুরিস্ট পুলিশ'-এর বিশেষ চৌকি স্থাপন ও করা হয়েছে বলে জানান। অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে ব্যবসা করে আসা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা 'হকার্স জোন' তৈরি করা হোক।
তবে প্রশাসনের সাফ কথা সৈকতের সৌন্দর্য ও দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবেশবাদীরা। তবে এবারের অভিযান কেবল 'লোক দেখানো' হবে কি না, নাকি স্থায়ী সমাধান আসবে— তা আগামী ৭ দিনেই স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করে সচেতন মহল।
এ জাতীয় আরো খবর...