দীপংকর মল্লিক, বান্দরবান
তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল শনিবার (২মে) থেকে দেশব্যাপী ন্যায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে জেলার ৭টি উপজেলা ও বান্দরবান পৌরসভা থেকে ৮টি ইভেন্টে প্রতি উপজেলা থেকে ১৪৪ জন খেলোয়াড় নিয়ে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
আশির দশকের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনের খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে দেখা হচ্ছে। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি সারাদেশের ন্যায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে যুক্ত থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসময় প্রধান অতিথি উপস্থিত হাজারও প্রতিযোগীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই নতুন যাত্রার শুভসূচনা করেন। এসময় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী, পুলিশ সুপার মোঃ আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো আবু তালেব, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো.রেজাউল করিম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এন.এ জাকিরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
এ সময় বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী বলেন এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস একটি আধুনিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি করতে এই উদ্যোগ। পাশাপাশি সারাদেশের ন্যায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে সারা দেশের সাথে একত্রে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাব। ক্রীড়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাথমিক স্কুলের মাঠ খেলার উপযুক্ত করে তুলে ক্রীড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান, প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান, প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতিস্বরূপ আরো প্রদান করা হবে সনদপত্র। জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিজেকে পরিণত করার সুযোগ থাকবে।
প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগও এর মাধ্যমে তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির সংস্কারের এক সাহসী প্রচেষ্টা।
যদি সঠিকভাবে এই প্রতিভাদের পরিচর্যা করা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে সকলে আশাবাদী। একইসঙ্গে আগামী দিনের ক্রীড়া উন্নয়নে এই কর্মসূচিকে একটি মাইলফলক হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...