ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ শেখ সাদী সুমন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ ছাত্র-জনতা। আজ রবিবার (১ মার্চ) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "খুনি আর ধর্ষকদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না। হয় বিচার করুন, নয়তো গদি ছাড়ুন।"
বিক্ষোভের উত্তাপে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো প্রেসক্লাব চত্বর। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত ছাত্র-জনতা সমাবেশে যোগ দিয়ে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রদর্শন করেন।
বক্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, "রাষ্ট্র আজ অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রমে পরিণত হয়েছে। বিচারহীনতার এই নির্লজ্জ সংস্কৃতিই অপরাধীদের বারবার উৎসাহিত করছে।"
যুব ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক প্রেমানন্দ দাশ বলেন, "আমরা কি এই স্বাধীন দেশে কেবল মরে যাওয়ার জন্য আর ধর্ষিত হওয়ার জন্য জন্মেছি? প্রশাসন যদি বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনতা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে।"
ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদস্য সচিব শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী তার বক্তব্যে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে ধিক্কার জানিয়ে বলেন, "রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে খুনিরা বুক ফুলিয়ে ঘুরবে আর সাধারণ মানুষ কবরে যাবে, তা আর হতে দেওয়া হবে না।"
উপস্থিত ও সংহতি
সমাবেশে আরও জোরালো বক্তব্য রাখেন সোনালী সকালের সদস্য জুবায়ের, ছাত্রনেতা মাসুম মুন্সি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক রাফি চৌধুরী এবং শিক্ষার্থী আহমেদ ঋদ্ধ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি অবিলম্বে সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হয়, তবে এই আন্দোলন কেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সারাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে।
"বিচারহীনতার দেয়াল ভেঙে চুরমার করার সময় এসেছে। ছাত্র-জনতা জেগেছে, এবার হিসাব দেওয়ার পালা।" বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে অপরাধীদের ফাঁসি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।
এ জাতীয় আরো খবর...