বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি দপ্তরের ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে রেলের জমি ইজারা ও রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থেকে তিনি রেলওয়ের বিভিন্ন জমি ইজারা ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। সচেতন মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ইজারা রেকর্ড, রাজস্ব আদায়ের হিসাব এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
রেলের ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি দপ্তরের ঢাকা বিভাগের ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক রেলের সম্পত্তি বিভিন্নভাবে অনিয়মের মাধ্যমে হস্তান্তর করে ঘুষ বাণিজজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তথ্য মতে জানা যায়, জিয়াউল হক ফিল্ড কানুনগো পদে থেকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য একই পদে ২০ বছর যাবত কর্মরত আছেন। ঢাকায় বর্তমানে কর্মরত অবস্থায় রেলওয়ের জমি বিভিন্নভাবে হস্তান্তর করে অবৈধ উপার্জন অব্যাহত রেখেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তোয়াক্কা না করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ কার্যক্রম।
বিভিন্ন কাগজপত্র অনুযায়ী তথ্য নিয়ে দেখা যায়, পূর্বের ডিইও মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মাহমুদ স্বাক্ষরিত ২০/০৫/২৫ এবং ২০/০৮/২৫ তারিখ মূলে নারায়ণগঞ্জ, গফরগাঁও, শ্রীপুর এলাকায় রেলের জমি প্রকাশ্য নিলাম ডাকের চিঠি প্রদান করে আব্দুস সাত্তার, বিল্লাল হোসেন, অনিক, মোঃ সুমন গংদের জমি লিজ লাইসেন্স প্রদান করে, ১৮/০৬/ ২০২৬ তারিখ কৃষি হিসেবে রাজস্ব আদায় করেন ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক। রেলের আইনমতে কোনো ব্যক্তি লিজ লাইসেন্স প্রাপ্তির পর তিন বছর বার্ষিক রেভিনিউ জমা না দিলে লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হয়। দেখা যায় ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক শ্রীপুরের আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে একত্রে ২৫ বছরের কৃষি লিজের রেভিনিউ গ্রহণ করেছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনবহির্ভূত। তাছাড়াও জিয়াউল টঙ্গী আরিজপুর ব্রিজের কাছে রেলের ৭হাজার বর্গফুট অর্থাৎ ১৬ শতাংশ জমি ১৯৯০ সন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩৪ বছরের একত্রে কৃষি লিজের রেভিনিউ গ্রহণ করে মোটা অংকের ঘুস-বাণিজ্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সাবেক ডিইও নাসির উদ্দিনকে ভুল তথ্য দিয়ে কারওয়ান বাজার মাছের আড়ত এলাকায় কৃষিজমি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিজ দিয়ে মোটা অংকের ঘুস গ্রহণ করেছে জিয়াউল হক, পরবর্তীতে উক্ত লিজ বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় চাষাঢ়া থেকে আদমজী সাইডিং লাইন গোদনাইল মৌজার কৃষি লাইসেন্স দিয়েছেÑ যা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নীতিমালা আছে টেন্ডার দিয়ে বাণিজ্যিক লাইসেন্স দিতে হয়। ফিল্ড কানুনগো জিয়া সদ্য বিদায়ী বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা নাসিরুদ্দিন ও ভূ-সম্পদ দপ্তরকে ম্যানেজ করে কৃষি লাইসেন্স দিয়েছেন, যা থেকে সরকার হারিয়েছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। বর্তমানে ওই স্থানে কৃষি লাইসেন্স নিয়ে বাণিজ্যিক মার্কেট গড়ে তুলেছেন, যা বাণিজ্যিক মার্কেট উপযোগী মাস্টার প্ল্যান না করে কৃষি লাইসেন্স প্রদান করেন যা ১০ বছরের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি বিভাগে রেকর্ডপত্র ও মাঠপর্যায়ে পর্যালোচনা করলে জিয়াউল রেলের আরো অনেক জমি অবৈধভাবে লিগ বণ্টন করেছে বলেও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক একসময় শ্রমিক লীগের লড়াকু নেতা হিসেবে চিহ্নিত বলে জানা যায়। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৭ বছর জিয়া রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলে খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরিকালীন অবৈধ ক্ষমতাবলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও নিজ নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ফিল্ড কানুনগো পদে জিয়াউল হক প্রায় ২০ বছর কর্মরত অবস্থায় রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পদোন্নতির জন্য এসিআর নিয়ে তলব করলেও সরকারি আদেশ অমান্য করে একই পদে বহাল থোকেই ঘুস-দুর্নীতির চরম পর্যায়ে উঠেছে। ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের রেলের জমি সঠিকভাবে লিজ ও ঘুস- বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপে ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হকের লাগাম টেনে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে জিয়াউল রেলের জমি অবৈধভাবে হস্তান্তর করতেই থাকবে।
উল্লেখিত বিষয় জিয়াউল হককে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রকাশ্য নিলাম-ডাকের ব্যাপারে কিছুই জানেন না তবে শুধুমাত্র গ্রাহকের কাছ থেকে লিজের বার্ষিক খাজনার টাকা আদায় করে খাজনার রশিদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে গ্রাহককে প্রদান করেছে। ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কাগজ পত্রে কোন প্রকার অনিয়ম থাকলে, যাচাই বাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হব্।েএব্যপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, অপরাধের সংশ্লিট তথ্য প্রমাণ পেয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সচেতন মহলের দাবি, রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ কার্যালয়ে কর্মরত
ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হকের একই পদে ২০ বছর চাকরিতে অবস্থান, এসিআর প্রদর্শন না করা, ঘুস-বাণিজ্যের মাধ্যমে রেলের জমি অবৈধভাবে ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ উপার্জন সংক্রান্ত বিষয়ে রেলের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান করে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। জিয়াউল হকের আরও অবৈধ সম্পদ অর্জন ও রেলের জমি অবৈধভাবে লিজ প্রদাদেনর বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম আগামী পর্ব পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর...