মো: ইয়াসিন আরাফাত
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন সবকটি সূচক কমেছে, একই সঙ্গে কমেছে টাকার অংকে লেনদেনও। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পতনের মাত্রা স্বাভাবিক দরপতনের চেয়ে বেশি—একে বাজারে এক ধরনের ধস বলা যায়।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে নেমেছে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস কমেছে ২২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৪৮টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত থেকেছে। লেনদেনও কমেছে—আগের কার্যদিবসের প্রায় ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা থেকে কমে রোববার লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার, অর্থাৎ প্রায় ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার চেয়ে বেশি। এদিন সিএসইতে ২০৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ৩০টির দর বেড়েছে, ১৫৭টির কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত থেকেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে অস্থিরতা চলছে। মাঝেমধ্যে দু-একদিন সূচক কিছুটা বাড়লেও তা বাজারে স্থায়ী প্রভাব রাখতে পারেনি। এই সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা বাজার উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে কথা বললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের। বাজারের অস্থিরতার প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন, তবে তাতেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যমান কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এ জাতীয় আরো খবর...