লোড হচ্ছে...
আজঃ 25 October 2026 | সময়ঃ
সদ্যপ্রাপ্ত :
চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মেসিকে নিয়েও হারল মায়ামি শুল্ক না থাকলে রাজস্ব ক্ষতি হবে ১৭০০ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ফাঁদে ১১ কোটি টাকা, রিমান্ডে চারজন শেয়ারবাজারে আসছে সিটি গ্রুপ, লক্ষ্য ১২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন ফ্রান্সজুড়ে আরেক দফা গণবিক্ষোভের পর সংঘর্ষে গ্রেপ্তার প্রায় ১ হাজার এডিএন টেলিকমের পর্ষদ সভা ২৭ অক্টোবর এসিআই ফরমুলেশনের বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা ইউসিবির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা ২৭ অক্টোবর সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের বোর্ড সভা সিলভা ফার্মার বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর রানার অটোমোবাইলসের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা টেকনো ড্রাগসের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা ব্র্যাক ব্যাংকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভা ২৭ অক্টোবর বার্জার পেইন্টসের পর্ষদ সভা ২৮ অক্টোবর মিডল্যান্ড ব্যাংকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা ব্যাংক এশিয়ার পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা বোর্ড সভার তারিখ জানিয়েছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ বিজিআইসির তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

লোকসানের ধারা অব্যাহত, নতুন অর্থবছরেও উন্নতি নেই তিতাস গ্যাসে

দৈনিক ভোরের কথা ডেস্ক
ছবির ক্যাপশন:


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির আর্থিক দুর্বলতা ও নানামুখী ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম লসজনিত ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা অনুমোদিত ২ শতাংশ ছাড় বাদ দেওয়ার পরও হিসাব করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

একসময় নিয়মিত মুনাফা ও লভ্যাংশ প্রদানকারী এই কোম্পানি ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকেই লোকসানের ধারায় রয়েছে। তিন অর্থবছর মিলিয়ে (২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫) মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই যোগ হয়েছে আরও ৬১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার লোকসান। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, যার ৭৫ শতাংশের মালিক সরকার এবং বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

গ্যাসের গ্রহণ-বিক্রি ব্যবধান

২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিতাস বিভিন্ন উৎস থেকে ১৫ হাজার ১৫৪ মিলিয়ন ঘনমিটার (এমএমসিএম) গ্যাস সংগ্রহ করলেও গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করতে পেরেছে ১৩ হাজার ৭১৮ এমএমসিএম, যাতে পণ্য বিক্রির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। নিরীক্ষকদের মতে, অবৈধ সংযোগ, জরাজীর্ণ ও পুরোনো বিতরণ লাইন, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পাইপলাইনের ক্ষতি, মিটারবিহীন গ্রাহকদের প্রকৃত ব্যবহারের তথ্যের অভাব, গ্যাস পরিমাপে অসামঞ্জস্য এবং লিকেজই এই সিস্টেম লসের মূল কারণ।

কর দাবি ও প্রভিশন সংকট

২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তিতাসের কাছে ৫ হাজার ৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকা আয়কর দাবি করেছে, যার বিপরীতে গত ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানি প্রভিশন রেখেছে মাত্র ২ হাজার ১৯৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এসব দাবির বিরুদ্ধে আপিল চলমান থাকলেও এখনো কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

দুর্বল ব্যাংকে আটকে থাকা টাকা

পদ্মা ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে তিতাসের ১১১ কোটি ২৯ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএফআরএস ৯ অনুসারে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক হলেও কোম্পানি তা করেনি বলে নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।

পাওনা আদায়ে অনিশ্চয়তা

বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবিএল) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে তিতাসের মোট পাওনা ৪৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা—যার মধ্যে ইজিসিবিএলের কাছে ১৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বিপিডিবির কাছে মিটার ভাড়া, সেবা ও ডিমান্ড চার্জ বাবদ ২৭৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন এসব অর্থ অনাদায়ী থাকায় আদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষকেরা।

এ ছাড়া হিসাবের গরমিলও ধরা পড়েছে। ইজিসিবিএলের কাছে তিতাসের হিসাব মতে পাওনা ২ হাজার ৯৪৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা হলেও ইজিসিবিএলের নিজস্ব হিসাবে তা ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা—পার্থক্য ১০২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। একইভাবে মেঘনা সুগার রিফাইনারির কাছে তিতাসের দাবি ৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে তা মাত্র ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ১৬৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার এই অসামঞ্জস্য এখনো সমন্বয় করা হয়নি।

মজুদ ও পেনশনে গরমিল

৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত তিতাসের মজুদ পণ্যের হিসাব দেখানো হয়েছে ৪৫৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা, তবে নিরীক্ষায় এর মধ্যে ৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ডেড স্টক এবং ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার অচল স্টক চিহ্নিত হয়েছে, ফলে হিসাবমান আইএএস ২ অনুযায়ী প্রকৃত মজুদের চেয়ে ৩৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে।

পেনশন তহবিলেও বড় ঘাটতি ধরা পড়েছে। ২০২০ সালের অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ১ হাজার ৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, বিপরীতে সম্পদ ছিল মাত্র ৯২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মধ্যে এই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা থাকলেও কোম্পানি এখন পর্যন্ত প্রভিশন রেখেছে ৩৬০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, ফলে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ৭৩২ কোটি ৬ লাখ টাকা।

তথ্যপ্রযুক্তিতেও ঝুঁকি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তিতাসের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতেও বেশ কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে—বোর্ড অনুমোদিত আইটি নীতিমালার অনুপস্থিতি, পুরোনো সফটওয়্যার মডিউলের ব্যবহার, অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে দায়িত্ব-ক্ষমতার সুস্পষ্ট কাঠামোর অভাব এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অরাকল ১২সি ডেটাবেজের ব্যবহার। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় লগ ব্যবস্থাপনা ও আইটি দুর্যোগ পুনরুদ্ধার মহড়ার অনুপস্থিতিও নিরীক্ষকদের নজরে এসেছে, যা আর্থিক তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে তাঁরা মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. লুৎফুল হায়দার মাসুম আগামীর সময়কে জানান, সিস্টেম লস কমাতে কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এ ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যায়নি।

ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন...

এ জাতীয় আরো খবর...
---------------------------------------------------------------------
20251001-014759
---------------------------------------------------------------------
img140-3
---------------------------------------------------------------------
img12-2