পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি;
কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা সোনালী বাজার সংলগ্ন ধ্বসে যাওয়া স্লুইসগেট পরিদর্শন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলম মাহবুব ও মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে মেরামতের মাধ্যমে স্লুইসগেটটি সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি ভরাতিঁতির জোয়ারের পানিতে ধ্বসের ফলে প্লাবনের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে টেকসই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না বলে এসময় নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানান এলাকাবাসীরা।
বুধবার (৪ মার্চ) স্লুইসগেট ধ্বসে যাওয়ার খবর পেয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শণে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গন স্থান মাটি দিয়ে ভরাট করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় দূ্র্ভোগ ও ক্ষতির আশংকা থেকে রক্ষা পেল স্থানীয় লবণ ও মৎস্যচাষী ও বসতবাড়ী।
সোনালী বাজার সংলগ্ন এ স্লুইসগেটটির উপর কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ও মৎস্য প্রজেক্ট নির্ভরশীল। মাত্র কয়েক মাস আগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে নামে মাত্র সংষ্কার করা হলেও অল্প দিনের ব্যবধানে সেটি আবার ধ্বসে পড়ে।
এতে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার লবণ ও মৎস্যচাষী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবী, বিগত ২০২২ সাল থেকে বেশ কয়েকবার লোক দেখানো সংষ্কার করা হলেও মুলত তা ছিল সরকারী অর্থ লোপাটের কৌশল। স্থায়ী ও টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত মেরামত না করা হলে প্রায় ৫ হাজার একর লবণ চাষ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এটি দ্রুত সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়া না হলে এলাকাবাসীর পক্ষ হয়ে কক্সবাজারের গর্বের ধন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের স্মরণাপন্ন হবো। এভাবে মগনামার মানুষ ঝুঁকিতে থাকবে এটা আমি বেঁচে থাকতে হতে দেব না ইনশাআল্লাহ ।
ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, স্থায়ী নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলে তারা এলজিইডির দায়িত্ব বলে জানায়, আর এলজিইডির কাছে গেলে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথা বলে। দুই দপ্তরের এই দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক কারণে স্লুইসগেটটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মেরামত করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
পরিদর্শনে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলম মাহাবুব জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থায়ী মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বরাদ্ধের জন্য প্রকল্প প্রস্তুত করছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ জাতীয় আরো খবর...