শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতি নিধী
আদালতের নির্দেশনা অমান্য, দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি ঘুষ গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন— গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন এবং কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম। জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
দাপ্তরিক ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি নির্মাণকাজের পাওনা বিল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় একটি আদালতের নির্দেশে গণপূর্ত বিভাগকে চুক্তি অনুযায়ী সাটারিং মালামালের ভাড়াসহ কাজের মূল্যায়নের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের আদেশের পরও দীর্ঘদিন প্রতিবেদন দাখিল না করে বাদীকে হয়রানি করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. স্বপন মিয়ার অভিযোগ, প্রতিবেদন দাখিলের বিনিময়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন ও কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের পরও তাঁরা সঠিক তথ্য গোপন করে এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ও দাপ্তরিক সিল জালিয়াতি করে একটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও সঠিক প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কম্পিউটার অপারেটর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
তবে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান জানান, "অফিসিয়াল স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণ আমরা পেয়েছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
এ জাতীয় আরো খবর...