লোড হচ্ছে...
আজঃ 07 September 2026 | সময়ঃ
সদ্যপ্রাপ্ত :
প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার হস্তান্তর সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের কারখানা বন্ধ বোর্ড সভার তারিখ জানিয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত নতুন ওয়েবসাইট চালু করল বিএসইসি দণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি রাষ্ট্রপতির আদেশে মওকুফ শেয়ারবাজারে বড় ধস, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রতিষ্ঠানের ইসলামী ব্যাংক শেয়ার আটকে দিলেন আদালত লোকসানের ধারা অব্যাহত, নতুন অর্থবছরেও উন্নতি নেই তিতাস গ্যাসে সূচকের পতনে চলছে লেনদেন সিটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ আজ লেনদেন নিষ্পত্তিতে মেঘনা কনডেন্সডের ৫০০ শেয়ার কিনবে ডিএসই ‎আমরা নেটওয়ার্কের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ আমরা নেটওয়ার্কের লভ্যাংশ ঘোষণা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় উল্লম্ফন, বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পথে বিএসইসি দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স দরপতনের শীর্ষে সায়হাম টেক্সটাইল বিএসইসি ও আইডিআরএ সংক্রান্ত দুই বিল সংসদে বিকন ফার্মার কোম্পানি সচিব নিয়োগ বাপার ইবিটি কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ পেল ৪৬ হাজার মানুষ।

কক্সবাজারের গিলেখাচ্ছে রোহিঙ্গারা: সৈকত পাড়ায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ‘পাহাড় কাটার’ উৎসব

দৈনিক ভোরের কথা ডেস্ক
ছবির ক্যাপশন: দৈনিক ভোরের কথা

মতিউল ইসলাম (কক্সবাজার) 
 
​বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত সাগর নন্দিনী, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন খাদের কিনারে। একদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি পর্যটকদের টানলেও, অন্যদিকে শহরের ভেতরের সবুজ পাহাড়গুলো এখন বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের সৈকত পাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর অপরাধী সিন্ডিকেট। 

স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় শত শত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এতে কেবল পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে না, বরং পর্যটন শহরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়ছে।
​​সৈকত পাড়া এলাকার মসজিদ সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র।

যেখানে একসময় সবুজের সমারোহ ছিল, সেখানে এখন কেবল মাটির ক্ষত আর অবৈধ ঝুপড়ি ঘর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত প্রভাবশালী ব্যক্তি মোটা অংকের মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আশ্রয় পাওয়া এই রোহিঙ্গারা দিনের বেলা শহরের বিভিন্ন শ্রমের কাজ করলেও রাতের আঁধারে লিপ্ত হয় পাহাড় কাটায়। প্রভাবশালীদের নির্দেশে তারা পাহাড়ের পাদদেশ খুঁড়ে মাটি সরিয়ে ফেলছে, যা দিয়ে নিচু জমি ভরাট বা প্লট তৈরি করা হচ্ছে।

​​অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই পাহাড় খেকো সিন্ডিকেটের অপকর্মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। পাহাড় কাটার ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রভাবশালীরা উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অপকর্মে মদদ দিচ্ছে স্থানীয় কিছু কথিত সমাজ প্রতিনিধি। সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে যখন তথাকথিত 'চাঁদা দাবির' সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ চাওয়া হয়, তখন এসব প্রতিনিধিরা কোনো প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। মূলত নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতেই এই 'চাঁদাবাজ' কার্ড ব্যবহার করছে সিন্ডিকেটটি।
​এই বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে কোনোভাবেই পাহাড় কাটা বা অবৈধ বসতি সমর্থন করা হবে না। রোহিঙ্গাদের যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে আশ্রয় দিয়ে পাহাড় ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সংবাদকর্মীরা সমাজের দর্পণ, তাদের কাজে বাধা দেওয়া বা মিথ্যা অপবাদ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এবং জনস্বার্থে প্রশাসনের যেকোনো পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। 

​সৈকত পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, এখানে এখন স্থানীয়দের চেয়ে রোহিঙ্গাদের দাপট বেশি। প্রভাবশালীরা তাদের দিয়ে পাহাড় কাটাচ্ছে, আর কেউ প্রতিবাদ করলে বা সাংবাদিকরা তথ্য নিতে এলে রোহিঙ্গাদের লেলিয়ে দেওয়া হয় এবং মিথ্যা চুরির বা চাঁদার অপবাদ দিয়ে হাঙ্গামা করা হয়। ​সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই পাহাড় খেকো সিন্ডিকেট এবং সাংবাদিকদের হেনস্তাকারীদের আইনের আওতায় না আনলে সৈকত পাড়া এলাকা অচিরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। 

পাহাড় ধসের ঝুঁকি ছাড়াও এই বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শহরের ভেতরে অবস্থান করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান সচেতন মহল পাশাপাশি কিছু ​জরুরি সুপারিশও জানান যেখানে বলা হয়েছে সৈকত পাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত ড্রোন জরিপ চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের যারা ঘর ভাড়া দিয়েছে এবং যেসব প্রভাবশালী সংবাদকর্মীদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ তুলে হয়রানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। 

শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সকল রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করে দ্রুত উখিয়া-টেকনাফের নিবন্ধিত ক্যাম্পে ফেরত পাঠাতে হবে। সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মিথ্যা অপবাদ দানকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানান।

ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন...

এ জাতীয় আরো খবর...
---------------------------------------------------------------------
20251001-014759
---------------------------------------------------------------------
img140-3
---------------------------------------------------------------------
img12-2