কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। (বিকেল সাড়ে ৫টা)
চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন— কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদী-এর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ; আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশ-এর প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক; এবং দৈনিক সংবাদ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে ছোটন কান্তি নাথের মাথা ফেটে যায়, ইকবাল ফারুকের ডান হাতের তালু কেটে যায় এবং এম জিয়াবুল হকের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। সাংবাদিকরা জানান, উত্তর হারবাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় বালু উত্তোলনের শ্রমিকরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বালু উত্তোলনের মূলহোতা নাজিম উদ্দিন। তিনি ‘সব শালারে মাটিতে পুঁতে ফেল’ বলে নির্দেশ দিলে শ্রমিকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
প্রথমে সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছড়িয়ে ফেলে পানিতে চুবিয়ে দেওয়া হয়। পরে ৭-৮ জন করে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে পাশের ছড়ার পানিতে চুবিয়ে ফেলা হয়। এতে ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের হাতের হাড় ভেঙে যায়। অপরদিকে ইকবাল ফারুকের ডান হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হলে হাতের তালু গুরুতরভাবে জখম হয়।
ছোটন কান্তি নাথ জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের একটি ঘরে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত আটটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের উদ্ধার করে লোহাগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মাথা ও হাতে সেলাই দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...