জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া: শেখ সাদী সুমন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে আসা অসহায় রোগীদের জিম্মি করা দালাল চক্রের বিষদাঁত ভাঙতে এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সীমাহীন নৈরাজ্য রুখতে রাজপথে নেমেছে প্রশাসন। রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে শহরের কুমারশীল মোড় ও লোকনাথ দিঘীরপাড় এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে সেবার নামে লুটপাটের প্রমাণ পাওয়ায় ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
যেখানে আইনের তোয়াক্কা নেই
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, নামিদামি এসব প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। টেকনোলজিস্ট ছাড়াই করা হচ্ছে এক্স-রে, যা রোগীদের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। নেই কোনো মূল্যতালিকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই চালানো হচ্ছে ব্যবসা। এছাড়া নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিল এই চক্র।
দণ্ডিত সেই ৪ প্রতিষ্ঠান:
অনিয়মের দায়ে হাতেনাতে ধরা পড়া এবং বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. আলিফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল
২. আয়াত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল
৩. স্ট্যান্ডার্ড হসপিটাল অব টোটাল হেলথ কেয়ার
৪. নাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল
প্রশাসনের হুঁশিয়ারি: ‘দয়ামায়ার সময় শেষ’ অভিযান শেষে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, "মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। আজ জরিমানা দিয়ে সতর্ক করা হলো, এরপর অনিয়ম পেলেই সরাসরি সিলগালা করা হবে। এই অভিযান কোনো একদিনের জন্য নয়, এটি এখন থেকে নিয়মিত চলবে।"
অভিযানটির নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে শহরের অবৈধ ক্লিনিক মালিক ও দালালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...