মো:নাহিদ মিয়া
কুমিল্লা (মেঘনা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ইভা আক্তার (১২) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল সাড়ে চার টায় মানিকারচর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের প্রবাসী মতিন মিয়ার মেয়ে ইভা আক্তার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত রমজান মাসে ইভা একই গ্রামের জুয়েল মিয়ার স্ত্রী সপ্নার বোনের ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ইভার মা শিল্পী আক্তার মেঘনা থানায় জুয়েল, সপ্না আক্তার ও তার বোনের পরিবারসহ অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে জুয়েলের মাধ্যমে ইভাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কৃষক দল নেতা জামান, জসিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি মেঘনা থানা থেকে বিষয়টি সুষ্ঠ মীমাংসার দায়িত্ব নেন।
তবে তারা সুষ্ঠু সমাধান না করে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিচার প্রভাবিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ইভা ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, ন্যায়বিচার না পেয়ে হতাশা থেকেই ইভা এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জামান মিয়া বলেন, এই ঘটনায় আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিল আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে সুষ্ঠ বিচার করার চেষ্ঠা করেছি কিন্তু মেয়ের মা শিল্পী আক্তার বিচারে উপস্থিত না থাকায় বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি, শিল্পী আক্তারের লোকজন বলেছে যেহেতু উপস্থিত নাই তাদের আর বিচারের দরকার নাই। থানার অভিযোগ শিল্পী আক্তার উঠিয়ে নিবেন।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার এএসআই রাসেল জানান, মেঘনা থানা কৃষক দলের সভাপতি জামান মিয়া দুই পক্ষকে নিয়ে সুষ্ঠু বিচার করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারও আর কোন কিছু জানায় নাই।
মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা একটি অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছি ।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ জাতীয় আরো খবর...