মনিরুজ্জামান মিন্টু
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ইয়াকুব উদ্দিন শাহ ওয়াকফ এস্টেটের জমি থেকে অবৈধ ভাবে ২৩ জন ভূমিদস্যুকে অপসারণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শাহ মো, জাকির আলম বাদী হয়ে ইয়াকুব উদ্দিন শাহ ওয়াকফ এস্টেটের জমি উদ্ধারের জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার শাহ পাড়া গ্রামের মৃত শাহ আব্দুস সোবাহানের ছেলে. শাহ মো, জাকির আলম ইয়াকুব উদ্দিন শাহ ওয়াকফ এস্টেটের বর্তমান মোতওয়াল্লী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এস্টেটের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের চেষ্টা করে আসছে । এই লক্ষ্যে তিনি গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জজ আদালতে ১৯৭/০৫ এবং ১১৪/১৪ নম্বরের দুটি মামলা দায়ের করে এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। আদালত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করে। অবৈধ দখলদাররা এই আদেশের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে আপিল করলে জেলা জজ আদালত গোবিন্দগঞ্জ আদালতের আদেশ বহাল রাখে।
এরপরও অবৈধ দখলদাররা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায়, বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শে ১২/২০১৬ মিস ভাইলেশন মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে অবৈধ দখলদারদের ১৫ দিনের সিভিল জেলের আদেশ হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায়, ওয়াকফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ এর ৬৪(১) ধারা মোতাবেক ওয়াকফ প্রশাসক, ঢাকা বরাবর ১৮/১১/২০১৯ইং তারিখে স্মারক নং-১৬.০২.০০০০.০৫৭.০৩১.০০০.৯৬/৮৬ মূলে অবৈধ দখলদারদের অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, জেলা ওয়াকফ উন্নয়ন কমিটি, গাইবান্ধা বরাবর একটি পত্র প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গোবিন্দগঞ্জ এসিল্যান্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কয়েক দফা তদন্ত শেষে ০৩/২০২৩ উচ্ছেদ কেস দায়ের করা হয় এবং গত ১৮/০৩/২০২৪ইং তারিখে জুয়েল মিয়া (সহকারী কমিশনার) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, একজন পুলিশ অফিসার ও পাঁচজন পুলিশ ফোর্স সহ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
অবৈধ দখলদাররা গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জজ আদালতে ১১৭/১৪ নম্বরের আরেকটি মামলা দায়ের করে গত ২০/০৩/২০২৪ইং তারিখে ৭৯, ৮২ ও ৮০ বিবাদীর উপর মিথ্যা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ লাভ করে। কিন্তু পূর্বে ১১৪/১৪ এবং ১৯৭/০৫ অন্য মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ থাকায় গত ০৪/০৮/২০২৫ইং তারিখে ২০/০৩/২০২৪ইং তারিখের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আবেদনটি নামঞ্জুর হয়। এরপরও অবৈধ দখলদাররা ইয়াকুব শাহ ওয়াকফ এস্টেটের জমি থেকে সরে না যাওয়ায়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হয়েছেন মোতওয়াল্লী।
ইয়াকুব উদ্দিন শাহ গত ০৪/১২/১৯১৬ইং সালে ৪৪৫৮ নং দলিল মূলে আল আওলাদ ইন্দানা ওয়াকফ করেন। দলিলে মোতওয়াল্লী নিয়োগের শর্তাবলী এবং ওয়াকফকৃত সম্পত্তি দেখাশোনার নির্দেশনা দেওয়া আছে। জুডিশিয়াল ভাবে প্রথম মোতওয়াল্লী তবিবর রহমান ১৪/০৫/১৯৪৯ইং তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ওয়াকফকৃত এই জমি তালিকাভুক্ত করান, যার ইসি নং- ১১৬৮৬ ইয়াকুব উদ্দিন শাহ ওয়াকফ এস্টেট। সেই মোতাবেক সি.এস, আর/এস, ও বি/আর/এস খতিয়ান প্রস্তুত হয় এবং খাজনাদি ওয়াকফ চাঁদা নিয়মিত প্রদান করা হয়। ইতিপূর্বে ৩০/১৯৯৭ অন্য মামলায় গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জজ আদালতে রায় ও ডিগ্রী ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষেই হয়েছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ জাতীয় আরো খবর...