শেখ সাদী সুমন জেলা প্রতি নিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন সাধারণ মানুষের সেবার বদলে চরম ভোগান্তি আর প্রতারণার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে এখানে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। জনবল সংকটের এই চরম সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রের একজন বাবুর্চি (কুক মশালচি) এখন বনে গেছেন ‘ডাক্তার’। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি ওষুধ বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনের মূল সারসংক্ষেপ:
অবকাঠামো আছে, সেবা নেই: ১৯৯৯ সালে তিতাস নদীর পূর্ব পারে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি একসময় হাজারো মানুষের ভরসা ছিল। অথচ বর্তমানে মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফসহ সবকটি গুরুত্বপূর্ণ পদই শূন্য।
বাবুর্চির দৌরাত্ম্য:
কেন্দ্রের বাবুর্চি মো. রাকিব মোল্লা এখন দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এবং দুর্ব্যবহার করছেন।
ওষুধ নিয়ে অনিয়ম: সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা। টাকা দিতে না চাইলে জোটে কেবল তিরস্কার। এমনকি সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা:
দীর্ঘ ১০ বছরের এই সংকট নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জরুরি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া:
এই পরিস্থিতি কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং গ্রামীণ জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় একজন অদক্ষ কর্মীর মাধ্যমে চিকিৎসা পরিচালনা করা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।
দাবি ও সমাধান:
১. অবিলম্বে কেন্দ্রটিতে অন্তত একজন স্থায়ী চিকিৎসক বা স্যাকমো (SACMO) পদায়ন করতে হবে।
২. জালিয়াতি এবং রোগীদের সাথে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. ওষুধের মজুদ ও বিতরণ স্বচ্ছ করার জন্য ডিজিটাল মনিটরিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ জাতীয় আরো খবর...