নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি)-এর পরিচালক (PEL, Exam and Training) Md. Saiful Haque Shah-এর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ এবং পাইলটদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর দুই সন্তান সিঙ্গাপুরের ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে বছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে একজন সন্তান কানাডায় উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, যার খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেশি। অভিযোগকারীদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বেতনভিত্তিক আয়ের সঙ্গে এসব ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এছাড়া তাঁর নামে কানাডায় দুটি বাড়ি এবং ঢাকায় একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিকভাবে সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় এ বিপুল সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু তাই নয়, দায়িত্বে থাকাকালে কয়েকটি এয়ারলাইন থেকে তিনি নিয়মিত ঘুষ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ডে আপস করে দ্রুত লাইসেন্স, পরীক্ষা ও সনদ অনুমোদন দেওয়া হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম জাতীয় বিমান নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
এছাড়া সিএএবি-এর পার্সোনেল লাইসেন্সিং (PEL) বিভাগ পাইলটদের ব্যক্তিগত ফাইল ‘হার্ড কপি’ থেকে ‘সফট কপি’তে রূপান্তরের কাজ এক ঠিকাদারকে দেয়। কাজ শেষে ডাটাবেস পরিচালক সাইফুল হক শাহের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিল অনুমোদনেও তিনি স্বাক্ষর করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে ওই ডাটাবেস থেকে পাইলটদের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে ফাঁস হয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং Ref: 30.31.0000.001.13.001.16/86, Date: 18.05.2025 নম্বরের অধীনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর...