গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে কর্মরত এক সাংবাদিক রতন ঘোষের বিরুদ্ধে বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বগুড়ার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত হলেও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে গোবিন্দগঞ্জ রিপোর্টার্স ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ এলাকার সীমা অতিক্রম করে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন এবং সাংবাদিকতার নীতিমালাকে উপেক্ষা করছেন।
গত বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জের রাখাল বুরুজে একটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি রতন ঘোষের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় রতন ঘোষ উপস্থিত হয়ে জেলা প্রতিনিধিকে উদ্দেশ করে বলেন, "গাইবান্ধার সাংবাদিক গাইবান্ধাতেই থাকুক, উপজেলায় কেন আসবে?"—এই বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে ঘটনাটি সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সচেতন মহল মনে করেন, জেলা প্রতিনিধি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, সেখানে উপজেলায় আসা যাবে না, রতব ঘোষের এ আচরণে খুদ্দ সাংবাদিক মহল।
সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, রতন ঘোষ অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকারী একটি বালুচক্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত, তাদের পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং ওই চক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাকে বালু দস্যু, ভূমিদস্যু ও মেশিন মালিকদের স্বার্থে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলনীতির পরিপন্থী।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্ডল জানিয়েছেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে রতন ঘোষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এ ঘটনায় গাইবান্ধাসহ গোবিন্দগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং গোবিন্দগঞ্জ রিপোর্টার্স ফোরাম কে অনতিবিলম্বে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...